১৪ অক্টোবর ২০১৪ - ১৫:৪৭
ঢাকায় পবিত্র ঈদে গাদির পালিত

পবিত্র ঈদুল আযহা, ঈদে গাদির ও ঈদে মুবাহিলা উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ আনন্দ মাহফিল গতরাতে আহলে বাইত (আ.) এর ভক্তদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ঢাকায় অবস্থিত ইরানি কালচারাল হাউসে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আহলে বাইত বার্তা সংস্থা (আবনা) : গতকাল (সোমবার, ১৮ই জিলহজ, ১৩ই অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ মাহফিল ঢাকায় অবস্থিত ইরানি কালচারাল হাউস এবং আল-মুস্তাফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের সাবেক প্রধান ও বাংলা একাডেমীর সাবেক মহাপরিচালক প্রফেসর ড. হারুনুর রশিদ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ঢাকাস্থ দূতাবাসের চার্জ দ্যা এ্যাফেয়ার্স জনাব রেজা আলায়ী ও ঢাকাস্থ ইরানি স্কুলের পরিচালক জনাব সাঈদিয়ান। ঢাকাস্থ ইরানি কালচারাল হাউসের ভারপ্রাপ্ত কাউন্সেলর জনাব আসগার খোসরাবাদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আল-মোস্তাফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা শাখার সাংস্কৃতিক বিভাগের প্রধান জনাব মোঃ ইউনুস আলী গাজী।
তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন কারি খালেদ বিন ইউসুফ। এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইরানি কালচারাল হাউসের ভারপ্রাপ্ত কাউন্সেলর জনাব খোসরাবাদি।
তিনি তার বক্তব্যে উপস্থিতদেরকে স্বাগত জানানোর পর পবিত্র এ দিবসগুলি উপলক্ষে সকলকে মোবারকবাদ জানান। পাশাপাশি ইমাম আলী (আ.) ও গাদীর দিবস উপলক্ষে কয়েক লাইন কবিতাও আবৃতি করেন।
ঢাকাস্থ ইরানি স্কুলের পরিচালক জনাব সাঈদিয়ান গাদীরে খুমের ঘটনাকে সংক্ষেপে উল্লেখ করে তার বক্তব্য শেষ করেন। এর পূর্বে তিনি মহানবি (স.) এর হিজরতের প্রতি ইশারা করে বলেন যে, মহানবি (স.) হিজরতের পর সর্বমোট তিনবার মক্কায় গমন করেছিলেন।
জনাব ইউনুস আলী গাজী গাদির দিবসে অবতীর্ণ আয়াতটি তেলাওয়াতের মাধ্যমে তার বক্তব্য শুরু করেন। গাদিরের ঘটনাকে ভুলে যাওয়ার কারণ এবং গাদিরের পূর্ব ও পরবর্তী ঘটনার বিশ্লেষণ করেন তিনি।
তিনি বলেন : গাদীরে খুমে ৪ প্রকারের লোক উপস্থিত ছিল; একনিষ্ঠ মু’মিন সাহাবীগণ, নওমুসলিমরা; যাদের বিরাট একটি অংশ কিছুদিন আগেও ইসলামের বিরুদ্ধে সকল যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করত, স্বার্থান্বেষী লোকেরা যারা উদীয়মান ইসলামি শক্তিকে দেখে ইসলাম ধর্মে দিক্ষিত হয়েছিল এবং মুনাফিকরা।
তার সংযোজন : এ চারটি দলের মধ্যে শুধু প্রথম দলটির নিকট প্রত্যাশা করা যেত যে, তারা গাদিরের বাণির প্রচার ঘটাবেন।
এছাড়া মহানবি (স.) এর ওফাতের পরবর্তী সময়ে বনি উমাইয়া খেলাফতে আসীন হওয়ার পর গাদিরকে জনগণের মাঝ থেকে মুছে ফেলে সাকিফাকে প্রতিষ্ঠিত করার যে অপচেষ্টা তারা চালিয়েছিল তার ফলশ্রুতিতে আজ গাদিরকে ভুলে যেতে বসেছে মানুষ।
ঢাকায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান দূতাবাসের চার্জ দ্যা এ্যাফেয়ার্স জনাব রেজা আলায়ী পবিত্র এ ঈদ উপলক্ষে মোবারকবাদ জানিয়ে বলেন : বর্তমানে পশ্চিমা শক্তিগুলো বিশ্ববাসীকে এ বিষয়টি দেখানোর চেষ্টা করছে যে তারা উগ্রতা ও সন্ত্রাসবাদের বিরোধী। কিন্তু তারাই শিয়া ও সুন্নিদের মাঝে বিভেদ ঘটাতে লন্ডনে কিছু টিভি চ্যানেল এমন কিছু মূর্খ মুসলমানদের হাতে তুলে দিয়েছে যারা এ দু’টি মাযহাবের মাঝে ফাঁটল ধরাতে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. হারুনুরু রশিদ তার বক্তব্যে বলেন : আমরা সকলেই মুসলমান, আমাদের প্রভু এক, আমাদের রাসুল (স.), কাবা, মদিনা সবই এক- তাহলে আমাদের মাঝে আজ এই ভেদাভেদ কেন? আমরা ভালভাবেই অবগত যে, এই ভেদাভেদ আমাদেরকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তা সত্ত্বেও এটাকে আমরা কেন জিঁইয়ে রেখেছি?
তিনি বলেন : চেষ্টা যে হয়নি তা নয়। ইমাম সাদিক (আ.) এর যুগে চেষ্টা হয়েছিল। যিনি ছিলেন হানাফি মাযহাবের প্রণেতা ইমাম আবু হানিফার মুর্শিদ।
তার সংযোজন : গাদিরের ঘটনায় কোন বিতর্ক নেই, তিনি (স.) সেখানে বলেছিলেন ‘আমি যার মাওলা আলিও তার মাওলা’। তবে সমস্যা হচ্ছে এর ব্যাখ্যা নিয়ে।
তিনি বলেন : ইসলামে দিক্ষিত ব্যক্তিদের মধ্যে দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেন হযরত আলী (আ.) এবং প্রথম ব্যক্তি হিসেবে হযরত খাদিজা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
প্রফেসর হারুনুরু রশিদ বলেন : মধ্যপ্রাচ্যে যে সকল (কথিত) সুন্নিরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে তাদের সাথে বাংলাদেশের সুন্নিদের পার্থক্য রয়েছে। বিশ্বে ইসলামের নামে ঘটমান সকল অরাজকতার মূলে রয়েছে ওয়াহাবিরা। তারা ইসলামি নিদর্শনসমূহকে একের পর এক ধ্বংস করে চলেছে। মহানবি (স.) এর বাড়ীটিকে একটি গ্রন্থাগার হিসেবে টিকিয়ে রেখেছে মাত্র। সেটাকেও তারা ভেঙ্গে তদস্থলে পার্কিং ও ফাইভ স্টার হোটেল নির্মাণ করতে চায়। তারা শিরকের নামে এ সব জঘন্য কাণ্ড ঘটিয়ে চলেছে। তারাই শিরক শিরক করে যারা মহানবি (স.) এর শানকে বুঝতে পারেনি। অথচ ইসলামে রাজতন্ত্রের কোন স্থান নেই।
তিনি বলেন : বর্তমানে ইহুদিবাদ গোটা বিশ্বকে গ্রাস করে চলেছে। অর্থের বিনিময়ে বর্তমানে তারা বিশ্ব মিডিয়াকে নিজের করে নিয়েছে।
তার সংযোজন : পাশ্চাত্য শক্তিগুলো চায় সবকিছুকে নিজেদের আধিপত্যে আনতে কিন্তু ইরানই একমাত্র দেশ যে তাগুতি শক্তির বিপরীতে মাথা নত করেনি এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রেখেছে।
উল্লেখ্য, বক্তব্যের মাঝে হামদে খোদা এবং গাদির ও মোবাহিলা দিবস উপলক্ষে বিশেষ ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন করেন যথাক্রমে মোঃ নাজমুল হক, মাহদি হাসান, শাহনেওয়াজ তাবিব ও তার দল। পাশাপাশি যাহরা এ্যাসোসিয়েশনের দুইজন সদস্য গাদীর ও আহলে বাইত (আ.) এর শানে কথিকা পাঠ করেন।
বলাবাহুল্য, সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আল-মুস্তাফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জনাব আব্দুল কুদ্দুস।#

জনাব আসগার খোসরাবাদি

কথিকা পাঠ

জনাব সাঈদিয়ান

জনাব ইউনুস গাজী

অংশগ্রহণকারীদের একাংশ

জনাব রেজা আলায়ী

পুরস্কার বিতরণ

পুরস্কার বিতরণ

অংশগ্রহণকারীদের একাংশ

প্রফে. ড. হারুনুরু রশিদ

ইরানি কালচারাল হাউস