আবনা ডেস্ক: ফিলিস্তিনের হামাসের রাজনৈতিক শাখার নতুন প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন ইসমাইল হানিয়া। সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পর খালিদ মেশাল হামাস প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। আর তার উত্তরসূরি নির্বাচিত হন উপ-প্রধান ইসমাইল হানিয়া। খালিদ মেশাল নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা। এক বিবৃতিতে মেশাল বলেন, ‘আমি ঘোষণা দিতে চাই যে, এই নতুন পরিষদ আমার ভাই ইসমাইল হানিয়াকে হামাস আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘নতুন নেতৃত্ব অন্যান্য নাম সঠিক সময়ে ঘোষণা করবে। এ নির্বাচন পরামর্শমূলক ও গণতান্ত্রিক পন্থায় হয়েছে। এটি হামাস আন্দোলনের ঐক্যের প্রমাণ।’ পূর্বসূরি মেশাল কাতারের দোহায় নির্বাসনে থাকলেও ৫৪ বছর বয়সী হানিয়া আগের মতোই গাজায় অবস্থান করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০০৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনের এই ছিটমহল হামাসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত বছর বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকেই খালেদ মেশালের উত্তরসূরি বলা হচ্ছিল। হানিয়া নিজেও প্রভাবশালী। ২০০৬ সালে ফিলিস্তিন আইনসভা নির্বাচনে হামাস জয়ী হলে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রধানমন্ত্রী হন ইসমাইল হানিয়া। তবে ২০০৭ সালে হামাস ও ফাত্তাহর মধ্যে সংঘাত বাঁধলে হানিয়াকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারণ করেন ফাত্তাহ-দলীয় প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। হানিয়া ওই ডিক্রি না মেনে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজা থেকে নিজের প্রধানমন্ত্রিত্ব চালিয়ে যান। পরে দু’পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে হানিয়া সরে দাঁড়ান। নতুন নেতা নির্বাচনের পূর্বে সোমবার হামাস তাদের নতুন নীতিমালা সমন্বিত নথি প্রকাশ করে। এতে সংগঠনটির কঠোর অবস্থানে অনেক শিথিলতা আনা হয়েছে। পূর্বে সংগঠনটি দাবি করতো, ইসরাইল সমেত সাবেক ম্যান্ডাটরি প্যালেস্টাইন পুরোটাই হবু ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের থাকতে হবে। তবে ওই অবস্থান থেকে সরে এসে সংগঠনটি বলেছে, ১৯৬৭ সাল পূর্ববর্তী সীমান্ত অনুযায়ী স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা তারা সমর্থন করে। এতে আরো বলা হয়, হামাসের লড়াই ইহুদি বা তাদের ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, বরং দখলদার ইসরাইল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। তবে হামাস কর্মকর্তারা বলছেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সীমানার বেলায় নমনীয়তা দেখালেও এর মানে এই নয় যে, হামাস ইসরাইলের অস্তিত্ব স্বীকার করে।
৭ মে ২০১৭ - ১৭:৩৪
News ID: 828385
ফিলিস্তিনের হামাসের রাজনৈতিক শাখার নতুন প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন ইসমাইল হানিয়া।