আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি ইরান প্রত্যাখ্যান করার পর একই পথে হাঁটার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে হিজবুল্লাহর প্রধান শেখ নাইম কাসেম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হামলা ও গোলাবর্ষণের মধ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় বসা মানে হবে ‘চাপিয়ে দেওয়া আত্মসমর্পণ’। তার মতে, এই পরিস্থিতিতে আলোচনা কোনো সমাধান নয়, বরং প্রতিরোধই একমাত্র পথ।
হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট একটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত ওই ভাষণে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সবাইকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বলা হয়, তাদের যোদ্ধারা ‘সীমাহীন’ লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত রয়েছে, যা সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত বহন করছে।
এ সময় লেবানন সরকারের প্রতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান নাইম কাসেম। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রমের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, তা তুলে নেওয়া উচিত। তার দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিরোধ জোরদার করতে এই ধরনের সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এর আগে একই দিনে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। প্রায় চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাত বন্ধের বিষয়ে তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট—যুদ্ধ কখন এবং কীভাবে শেষ হবে, তা নির্ধারণ করবে ইরান নিজেই।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা দেশটির সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া হবে না। ইরান তার নিজস্ব শর্ত পূরণ হলেই কেবল সংঘাত বন্ধের সিদ্ধান্ত নেবে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, নিজেদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ইরান প্রতিরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনে শত্রুর ওপর ‘চরম আঘাত’ হানবে। এতে করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আলোচনার চেষ্টা চালালেও তেহরানের দৃষ্টিতে এসব প্রস্তাব ‘অযৌক্তিক’। বরং এগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে আমেরিকার ব্যর্থতা আড়াল করার কৌশল বলেও দাবি করেন তিনি।
এছাড়া ২০২৫ সালের বসন্ত ও শীতকালে অনুষ্ঠিত দুই দফা আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে ওই কর্মকর্তা সেগুলোকে মার্কিন ‘প্রতারণা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। সব মিলিয়ে ইরান ও হিজবুল্লাহর এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত ও অনিশ্চিত করে তুলছে।
Your Comment