আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (IRGC) বলেছে, মার্কিন বাহিনীর অন্যতম কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে হামলা চালানো হয়।
ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, মার্কিন বিমানবাহিনীর ৮১-০০০৫ নম্বর যুক্ত ই-৩জি সেন্ট্রি বিমানটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিমানের পেছনের অংশ, যেখানে বিশাল ঘূর্ণায়মান রাডার ডোম (Radar Dome) থাকে, সেটি সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে বিমানটি দ্বিখণ্ডিত হয়ে পড়েছে। এছাড়াও স্যাটেলাইট ইমেজে একাধিক কেসি-১৩৫ (KC-135) রিফুয়েলিং বিমান এবং ঘাঁটির লজিস্টিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিহ্ন দেখা গেছে।
আক্রান্ত বিমানটি সাধারণ কোনো যুদ্ধবিমান নয়, বরং এটি মার্কিন আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণের মূল শক্তি ‘AWACS’ (Airborne Warning and Control System)।
কাজ: এটি আকাশে উড়ন্ত রাডার স্টেশন হিসেবে কাজ করে, যা ২৫০ মাইলের বেশি দূর থেকে শত্রু বিমান বা মিসাইল শনাক্ত করতে পারে।
মূল্য: প্রতিটি বিমানের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৭০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিশেষত্ব: এর পিঠে থাকা ৩০ ফুট চওড়া ঘূর্ণায়মান রাডার ডোমটি যুদ্ধের ময়দানে রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদান এবং কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করে।
এই হামলার পর রিয়াদ এবং আশপাশের অঞ্চলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী রাজধানী রিয়াদের আকাশে বেশ কিছু ড্রোন ও মিসাইল প্রতিহত করার দাবি করলেও, বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যে আঘাত হেনেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইরান বর্তমানে সামরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলে, “ইরানের কোনো নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী অবশিষ্ট নেই, তাদের ৮২ শতাংশ মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস করা হয়েছে।” তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানকে দমনে আরও কঠোর হওয়ার জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন আর কোনো নির্দিষ্ট সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি সৌদি আরব ও ইরানের সরাসরি যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Your Comment