১ এপ্রিল ২০২৬ - ১৫:০৮
ইরানে স্থল অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে

গ্রিকোর মতে, দুর্বল ইরান মানেই অনুগত ইরান নয়; বরং টিকে থাকা শাসনব্যবস্থা আরও কঠোর ও পারমাণবিক সক্ষমতার দিকে ঝুঁকতে পারে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, পেন্টাগন অতিরিক্ত প্রায় ২,০০০ প্যারাট্রুপার মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে, যারা ‘ইমিডিয়েট রেসপন্স ফোর্স’-এর অংশ হিসেবে ১৮ ঘণ্টার মধ্যে যেকোনো স্থানে পৌঁছাতে সক্ষম। সব মিলিয়ে ইরানকেন্দ্রিক এই অভিযানে বর্তমানে প্রায় ৫০,০০০ মার্কিন সেনা নিযুক্ত রয়েছে।

তবে স্থলবাহিনীর সম্ভাব্য লক্ষ্য কী হবে, সেই প্রশ্নের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে আরেকটি উদ্বেগ যাকে বিশেষজ্ঞরা ‘ইরানি ফাঁদ’ হিসেবে উল্লেখ করছে। একই সঙ্গে এমন যুদ্ধে মার্কিন জনগণের অনীহাও নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ড. গ্রিকোর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি স্থলযুদ্ধে মার্কিন জনমত এমনকি ট্রাম্পের সমর্থকরাও সমর্থন দেবে না।

তিনি বলেন, গত দুই দশকে ইরাক ও আফগানিস্তানে প্রাণহানি, বিপুল ব্যয় এবং কৌশলগত ক্ষতির অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রকে ক্লান্ত করেছে। যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিয়েই ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেছিল এটিও গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের দুটি প্রধান লক্ষ্য থাকতে পারে যার উভয়ই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রথমটি হলো ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখল করা। তবে গ্রিকোর মতে, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনী সহজেই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

এমনকি দ্বীপটি দখল করা গেলেও ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা স্থলভাগের গভীরে সরিয়ে নিয়ে দীর্ঘ উপকূলজুড়ে পাল্টা হামলা চালাতে পারে, যা সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলবে।

দ্বিতীয় সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। যদিও আকাশ হামলায় এসব স্থাপনা সাময়িকভাবে অচল করা সম্ভব, তবে সম্পূর্ণ ধ্বংস বা পুনর্গঠন রোধ করা কঠিন যা স্থল অভিযানের পক্ষে যুক্তি তৈরি করে, কিন্তু একই সঙ্গে ঝুঁকি ও ব্যয় বহুগুণ বাড়ায়।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ শক্তির আধিপত্য সত্ত্বেও ইরান টিকে থাকার পেছনে রয়েছে তাদের ‘অপ্রতিসম যুদ্ধ’ কৌশল। ড. গ্রিকোর মতে, ইরানের লক্ষ্য প্রতিপক্ষকে সরাসরি পরাজিত করা নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে ক্লান্ত করে ফেলা।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যয়বহুল। হার্টুং বলে, কয়েক হাজার ডলারের ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েক মিলিয়ন ডলারের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে ব্যয়ের ভার দ্রুত বাড়ছে।

পেন্টাগনের তথ্য গোপন রাখা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। হার্টুংয়ের মতে, পরিস্থিতিকে সহজ মনে করলেও বাস্তবে এটি একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইরান কীভাবে মার্কিন প্রযুক্তির মোকাবিলা করছে।

সবশেষে প্রশ্ন থেকে যায়—এই সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কী হবে? গ্রিকোর মতে, দুর্বল ইরান মানেই অনুগত ইরান নয়; বরং টিকে থাকা শাসনব্যবস্থা আরও কঠোর ও পারমাণবিক সক্ষমতার দিকে ঝুঁকতে পারে।

আব্রাহাম অ্যাকর্ডস, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল নিরাপত্তা সম্পর্ক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্য নিয়ে যখন গভীর আলোচনার প্রয়োজন, তখন তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক লাভের আশায় যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়াই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha