আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ট্রাম্প নিজের মালাকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও মূল ইস্যু- পারমাণবিক কর্মসূচি- নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা পালন করেনি। বরং প্রণালিতে মাইন থাকার আশঙ্কা তৈরি করে জাহাজ চলাচলকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে, যা বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী শিগগিরই হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ ও বহির্গমনকারী সব জাহাজের ওপর নজরদারি এবং কার্যত অবরোধ আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করবে। ট্রাম্প বলেছে, যারা ইরানকে কোনো ধরনের টোল দেবে, তাদের জাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমাতেও আটক করা হতে পারে।
ট্রাম্প আরও জানায়, প্রণালিতে স্থাপিত মাইন ধ্বংসে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সতর্ক করে, যুক্তরাষ্ট্র বা বেসামরিক জাহাজের ওপর কোনো হামলা হলে তার জবাব কঠোর সামরিক শক্তি দিয়ে দেওয়া হবে।
ট্রাম্পের ভাষায়- ‘আমি আমাদের নৌবাহিনীকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এমন প্রতিটি জাহাজকে খুঁজে বের করতে ও গতিরোধ করতে নির্দেশ দিয়েছি, যারা ইরানকে টোল (শুল্ক) দিয়েছে। যারা বেআইনিভাবে টোল দেবে, গভীর সমুদ্রে তাদের কোনো নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হবে না।’
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের একটি বড় অংশ সম্পন্ন হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। এই প্রণালিকে ঘিরে যেকোনো যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো উসকানি আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
Your Comment