আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): আরাকচি ইরানের সাম্প্রতিক ৪০ দিনের যুদ্ধ পশ্চিম এশিয়ার ঘটনাপ্রবাহে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের সূচনা করেছে এবং সতর্ক করেন যে, এই অঞ্চল আর নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের ওপর ভরসা করতে পারে না।
আরাকচি বলেন, “আজ আঞ্চলিক দেশগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি বুঝতে পেরেছে যে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা একটি আন্তঃসংযুক্ত সমগ্র ব্যবস্থা, এই অঞ্চলের সব দেশের ভাগ্য পরস্পর যুক্ত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থার ওপর নির্ভর করা যায় না।”
আরাকচি যুদ্ধ ও যুদ্ধবিরতি সম্পর্কিত সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তার মালয়েশীয় সমকক্ষকে অবহিত করেন। তিনি এই ৪০ দিনের সংঘাতকে শুধু দুই পক্ষের বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ হিসেবে না দেখে বরং সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে এমন একটি ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
তিনি বলেন, এই যুদ্ধ আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে এই উপলব্ধিকে দ্রুততর করেছে যে যৌথ ও স্বদেশীয় (নিজস্ব) নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে—যা দীর্ঘদিন ধরে ইরান সমর্থন করে আসছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুদ্ধ চলাকালে ইরানের প্রতি অবস্থানের জন্য মালয়েশিয়া সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষভাবে তিনি মিনাবে শিক্ষার্থী শিশুদের হত্যার ঘটনায় মালয়েশিয়ার নিন্দার কথা উল্লেখ করেন।
আরাকচি হরমুজ প্রণালির বিষয়েও সরাসরি কথা বলেন এবং এটিকে “আগে ও পরে” দুই ভাগে বিভক্ত একটি পরিস্থিতি হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে এই প্রণালি সম্পূর্ণ খোলা ও নিরাপদ ছিল এবং ইরান ও ওমান—এই দুই উপকূলীয় রাষ্ট্র—যাত্রীবাহী ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য নেভিগেশন সহায়তা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করত।
তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসনের অবৈধ আগ্রাসনই এ বিষয়ে নতুন ব্যবস্থাগুলো পর্যালোচনার প্রয়োজন তৈরি করেছে,”—এভাবে তিনি হরমুজ প্রণালীর বর্তমান অস্থিরতার দায় ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ওপর আরোপ করেন।
অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসান জানান, ইরানের সঙ্গে তার দেশের সম্পর্ক সবসময়ই ইতিবাচক ও বন্ধুত্বপূর্ণ।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগের বিরোধিতায় মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, কূটনীতি ও সংলাপের সুযোগ সবসময় বজায় রাখা ও সম্প্রসারণ করা উচিত।
উভয়পক্ষ ভবিষ্যতে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন।
Your Comment