আশুরার দিনে হযরত রুকাইয়া (সা.আ.)-এর সাথে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হৃদয়বিদারক বিদায়ের মাসায়েব;
কিছু বর্ণনায় উল্লেখ আছে: আশুরার দিনে হযরত সকিনা (সা.আ.) তাঁর তিন বছর বয়সী বোনকে (যিনি সম্ভবত রুকাইয়া (সা.আ)) বললেন, "এসো, আমরা আমাদের বাবার আবা ধরে থাকি এবং তাঁকে যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে দেব না।" এ কথা শুনে ইমাম হুসাইন (আ.) অনেক কাঁদলেন এবং তখন রুকাইয়া (সা.আ.) বাবাকে বললেন:
বাবা! আমি তোমাকে বাধা দেব না; (অর্থাৎ তুমি যদি শত্রুর সাথে যুদ্ধে যেতে চাও, যাও, আল্লাহ তোমার সহায় হোন) কিন্তু আমার সাথে দেখা হওয়া পর্যন্ত (কিছুক্ষণ) অপেক্ষা করো; ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁকে আলিঙ্গন করলেন এবং তাঁর শুকনো ঠোঁটে চুম্বন করলেন। এই সময় তিনি মধুর স্বরে বললেন, বাবা:
« العطش العطش، فان الظما قد احرقني »؛
আমি তৃষ্ণার্ত বাবা তৃষ্ণার্ত, আমার তৃষ্ণার তীব্রতায় আমার কলিজা পুড়ে যাচ্ছে।
ইমাম হুসাইন (আ.) তাকে বললেন: তাঁবুর পাশে বসো, আমি তোমার জন্য পানি নিয়ে আসব (অর্থাৎ, যদি তোমার জন্য পানি আনার মতো চাচা আর না থাকে, তবে আমিই পানি আনার সাক্কা হব)। তারপর ইমাম হুসাইন (আ.) ময়দানের দিকে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেন এবং রুকাইয়া আবার তার বাবার কাপড় ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলল:
"বাবা, আপনি কোথায় যাচ্ছেন? কেন আমাদের ছেড়ে যাচ্ছেন?" (অর্থাৎ, সে বোঝাতে চাচ্ছে: বাবা, আমাদের পানির প্রয়োজন নেই, আমরা তৃষ্ণা সহ্য করব, কিন্তু আমাদের ছেড়ে যাবেন না; কারণ, আমার চাচা আব্বাসও তো পানি আনতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি আর ফিরে আসেননি)।
সূত্র:
১- শেখ আলী ফালসিফী, হযরত রুকাইয়া (সা.আ.), পৃ. ৫৫০; সাইয়্যেদ মোহাম্মদ তাকী মোগাদ্দাম, আশুরার ঘটনাবলী, পৃ. ৪৫৫।
হামিদরেযা রেযায়ী
পবিত্র কোম নগরী
Your Comment