১৮ জুন ২০২৬ - ১৯:৫৫
কলিবফ: সাম্প্রতিক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য ব্যর্থ করেছে ইরান

ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংঘাত ও কূটনৈতিক অধ্যায়ের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধকে উল্লেখ করে দেশটির প্রধান আলোচক দলের প্রধান ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ বলেছেন, এই যুদ্ধে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করে দিতে সক্ষম হয়েছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): এক বিশেষ টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে কলিবফ বলেন, ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও রাজনৈতিক মোকাবিলার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে।



পারমাণবিক আলোচনা ও যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) বা পরমাণু চুক্তি দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত হলেও সাম্প্রতিক যুদ্ধ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক তৎপরতা নানা দিক থেকে ভিন্ন ও তাৎপর্যপূর্ণ।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের ব্যাপ্তি ও প্রভাব অত্যন্ত বিস্তৃত। যদিও ঘটনাটি আঞ্চলিক পরিসরে সংঘটিত হয়েছে, এর প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব বিশ্বব্যাপী অনুভূত হচ্ছে।

কলিবফের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে চারটি প্রধান ক্ষেত্র সমান্তরালভাবে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে সামরিক ক্ষেত্র, জনগণের অংশগ্রহণ, কূটনৈতিক অঙ্গন এবং সেবামূলক কার্যক্রম। তিনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দক্ষতা, সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একইসঙ্গে সংকটের শুরু থেকেই জনগণ সক্রিয় উপস্থিতি ও সংহতির পরিচয় দিয়েছে।

তিনি কূটনীতিকে বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আলোচনার বিষয়টি যথাসময়ে আরও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হবে। পাশাপাশি সেবামূলক কার্যক্রমকেও তিনি জাতীয় প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, জাতীয় ঐক্য, প্রজ্ঞা ও শক্তিমত্তা-এই তিনটি উপাদান বর্তমান সমন্বয়ের মূল ভিত্তি। তার ভাষায়, ইরানি জনগণের আচরণে যে বিচক্ষণতা প্রতিফলিত হয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে জাতীয় সক্ষমতা প্রদর্শিত হয়েছে, সেটিই দেশের শক্তির উৎস।

আলোচনার প্রসঙ্গে কলিবফ বলেন, তিনি কখনোই আলোচনার বিরোধী নন; তবে আলোচনার ধরন ও উদ্দেশ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, আলোচনা তখনই মূল্যবান, যখন তা জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের একটি কার্যকর উপায় হিসেবে কাজ করে।

তিনি দাবি করেন, অতীতের আলোচনার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির পার্থক্য হলো—এবারের আলোচনা গড়ে উঠেছে ‘মাঠের অর্জন’ এবং ‘জাতীয় শক্তির’ ভিত্তির ওপর। সীমিত সামরিক সক্ষমতা ও নানা বৈষম্যপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কলিবফ আরও বলেন, সংগ্রামের অংশ হিসেবে পরিচালিত আলোচনায় আত্মসমর্পণ বা বাস্তবতাবিবর্জিত স্লোগানের কোনো স্থান নেই। আলোচনাকে অবশ্যই বাস্তব পরিস্থিতি, জাতীয় শক্তি এবং দেশের স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান সবসময়ই স্পষ্ট করেছে যে, আলোচনা মানে দেশের জনগণের অধিকার থেকে সরে আসা নয়। দেশের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসন হলে সশস্ত্র বাহিনী তার জবাব দিতে প্রস্তুত ছিল এবং সেই প্রস্তুতির প্রমাণও বাস্তবে দেখা গেছে। বক্তব্যের শেষাংশে কলিবফ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, সশস্ত্র বাহিনী, জনগণ এবং আলোচক দলের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তাদের নেতৃত্ব, ত্যাগ, প্রতিরোধ এবং নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই বর্তমান অর্জন সম্ভব হয়েছে।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha