আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): জর্জ ডব্লিউ বুশ ও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করা এলিয়ট আব্রামস এক নিবন্ধে লিখেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ এমন একটি বাস্তবতা সামনে এনেছে, যা চলতি বছরের আগ পর্যন্ত মার্কিন নীতিনির্ধারকদের কাছে খুব একটা গুরুত্ব পায়নি। সেটি হলো পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বর্তমান অবস্থান ও বিন্যাস।
ওই নিবন্ধ অনুযায়ী, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন ইরানের হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর ফলেই মার্কিন বাহিনীর অধিকাংশ হতাহত এবং সামরিক সরঞ্জামের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আব্রামসের ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত, প্রায় ৫০০ জন আহত এবং মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে।
আরও উল্লেখ করেছে, কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি। যুদ্ধ শুরুর আগে সেখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। এছাড়া বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর এবং কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও সৌদি আরবে অবস্থিত অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি পাল্লার মধ্যে রয়েছে।
আব্রামস বলে, বর্তমান পরিস্থিতি অতীতের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পাল্লা বিবেচনায় নিলে, ঘাঁটিগুলো আরও দূরে সরিয়ে নেওয়া হলেও ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হবে না। তবে এতে প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা বেশি সময় পাবে।
আব্রামস পূর্বাভাস দিয়েছে, অদূর ভবিষ্যতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি কংগ্রেস ও দেশটির সামরিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হবে। একই সঙ্গে ইরান থেকে আরও দূরবর্তী এলাকায় মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তরের প্রক্রিয়াও অব্যাহত থাকবে।
তিনি সতর্ক করে বলেছে, মার্কিন সেনারা যত বেশি সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার মধ্যে অবস্থান করবে, ওয়াশিংটনকে তত বেশি মূল্য দিতে হবে, যা যুদ্ধ প্রস্তুতি, প্রতিরোধক্ষমতা এবং মানবিক ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে আরও ব্যয়বহুল হবে।
Your Comment