২ জুলাই ২০১৬ - ০৯:৪৮
আচ্ছা, তোমরা ইফতার করো কই ?

ইফতারের আর অল্প কিচ্ছুক্ষন বাকি, ঘটনাস্থল ঢাকার নিকটবর্তী কোন এক জেলা শহর, ব্যতস্তম চৌরাস্তায় দায়িত্ব পালন করছেন বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য, সাথে রয়েছেন তাদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও।

আবনা ডেস্ক: ইফতারের আর অল্প কিচ্ছুক্ষন বাকি, ঘটনাস্থল ঢাকার নিকটবর্তী কোন এক জেলা শহর, ব্যতস্তম চৌরাস্তায় দায়িত্ব পালন করছেন বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য, সাথে রয়েছেন তাদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও। এমন সময়ে তিনি আসলেন । এসে বরাবরের মতো সবার সাথে হাসি মুখে কথা বললেন । পরিস্থিতি জানলেন । খোজঁ খবর নিলেন । রোযা রেখে দায়িত্ব পালন করছি জেনে সবাইকে ধন্যবাদ জানালেন । হঠাৎ সবাইকে চমকে দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “আচ্ছা, তোমরা ইফতার করো কই? তোমাদের ইফতারের কি ব্যবস্থা ?”
পুলিশ সদস্যরা হাসি মুখে বললেন, সমস্যা নেই স্যার । আমরা ইফতার করে নিবো। তিনি প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে বললেন, “হুম..বুঝেছি….শোন, আমি টাকা দিচ্ছি । তোমরা ইফতার করে নিও।”
পুলিশ সদস্যরা বিনয়ী ভঙ্গিতে হেসে বললেন “টাকা লাগবে না, স্যার। আপনি আমাদের খোজঁ নিয়েছেন এতেই আমরা খুশি ।” তিনি আবারও টাকা বের করার চেষ্টা করলেন । পুলিশ সদস্যরা তাকেঁ অনুরোধ করে না করায় বললেন “ঠিক আছে তাহলে সময় মতো ইফতার করে নিও।”
Good manners will often take people where neither money nor education will take them.
এই হচ্ছেন ওবায়দুল কাদের। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মন্ত্রী হবার পর থেকেই রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই নিজের মন্ত্রীত্বকে নিবেদন করেছেন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ ছেড়ে নিত্যদিন সড়কে ঘাম ঝরিয়েছেন। অনেকেই তার অ্যাকশন বা কাজের স্টাইলকে আড় চোখে দেখলেও ‘নায়ক’ সিনেমার অনিল কাপুরকেও হার মানানো এ মন্ত্রী দেশের জনগণের চাওয়া-পাওয়াকেই গুরুত্ব দিয়েছেন বরাবরই। সড়কে রক্তপাত কমাতে এ মন্ত্রীই কোনো রকম প্রটোকল ছাড়াই ব্যাটারি চালিত অটো রিকশার বিরুদ্ধে নিজেই অভিযানে নেমে পড়েন। বছরের প্রায় পুরোটা সময় মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সড়ক, সেতুসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করতে দেশের এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত চষে বেড়ান।
দায়িত্বে অবহেলা বা কাজে গাফিলতি পেলে তাৎক্ষণিক দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ নেন। প্রতিটি কার্যক্রমের নিজেই নিবিড় ফলোআপ করেন। শুধু সড়ক-মহাসড়কেই মন্ত্রীর তৎপরতা সীমাবদ্ধ নয়। ক’দিন আগে মন্ত্রী উত্তরা ও কেরানীগঞ্জে বিআরটিএ অফিসে দালাল ধরার অভিযানে নামেন। হাতেনাতে ধরেনও দালালদের। মন্ত্রীর এসব কর্মকাণ্ডে বরাবরই দেশের সাধারণ মানুষের বাহবা পেয়েছেন।
গত বছরের একটি ঘটনা। ফেসবুক ও মোবাইলফোনে অভিযোগ পেয়ে গাজীপুরের সালনা বাজারে চুপিসারে অভিযানে আসেন মন্ত্রী। সেখানে ফ্রি স্টাইলে প্রকাশ্যে পুরনো মাইক্রোবাস কেটে তৈরি হচ্ছিল লেগুনা। মন্ত্রী এসে ওই অবৈধ কারখানা বন্ধ করে দেন। এমন ঘটনা শুধু একটি বা দু’টি নয়, অসংখ্য।
সরকারের সফল মন্ত্রীদের অন্যতম ওবায়দুল কাদের। দেশের ঐতিহ্যবাহী ছাত্রসংঠন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। রাজনীতির দুর্গম পথ হেঁটে এখন আওয়ামী লীগ রাজনীতির অন্যতম নীতি নির্ধারক। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সামলাতেও তার ভূমিকা প্রশংসনীয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত এ ছায়াসঙ্গী স্টেট ফরোয়ার্ড মন্ত্রী হিসেবে আলোচিত। যা বিশ্বাস করেন সেটাই করেন শিল্প ও সংস্কৃতিপ্রেমী এ মানুষ। মন্ত্রী নিজেই বলেন, ‘শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে মানুষের দুঃখ-কষ্ট-দুর্ভোগ বোঝা যায় না। এগুলো বুঝতে হলে রাস্তায় নামতে হয়। জনগণের কাছাকাছি যেতে হয়।’
‘সরকারের দক্ষ, মেধাবী এ মন্ত্রী দল ও দেশের ভাবমূর্তিকেই বড় করে দেখেন। নিজের চোখে জনদুর্ভোগ দেখে সমাধান করেন। দায়িত্বশীল মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এটিই করেন।
এই দেশে এমন মন্ত্রীও এক সময় ছিল যে পুলিশ সারা দিন সামনে পিছনে থেকে প্রটোকল ডিউটি পালন করেছে না খেয়ে । সারাদিন না খেয়ে থাকা পুলিশ সদস্যদের রাত যাপনের জন্য ছোট ঘরের এক কোনায় খড়ের বিছানা পেতে দেয়া হতো । সারাদিন রোদে পুড়ে ঘামে ভেজাঁ ইউনিফর্ম আর বুট পড়ে ক্ষুধার্ত পেটে সেই “পুলিশ”গুলো ঘুমাতেন! কেউ খবরও নিতো না !
সেই দেশে তিনিও মন্ত্রী! রোযাদার পুলিশরা ইফতার কিভাবে কোথায় করে সেই খবরও নেন।