আবনা ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী সীমান্ত দেয়াল তোলার খরচ মেক্সিকো দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর নতুন কৌশল নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন। ওয়াশিংটন বলেছে, এই খরচ তুলতে যুক্তরাষ্ট্রে মেক্সিকোর পণ্য রপ্তানিতে ২০ শতাংশ হারে শুল্ক নেওয়া হবে। মেক্সিকো সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এতে মার্কিন নাগরিকেরাই বিপদে পড়বে। কর আরোপের কারণে মেক্সিকান পণ্য তাদের আগের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে কিনতে হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল মেক্সিকো সীমান্তে ৩ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ দেয়াল তোলা। এটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। এই খরচ মেক্সিকোর কাছ থেকেই আদায় করা হবে বলে সে সময় বলেছিলেন ট্রাম্প। বুধবার ট্রাম্প দেয়াল তোলার ব্যাপারে এক নির্বাহী আদেশে সই করেন। মেক্সিকো এ দেয়াল নির্মাণের বিরোধিতা করে আসছে। নির্মাণ ব্যয় পরিশোধ করবে না বলেও আগেই জানিয়ে দিয়েছে দেশটি। ৩১ জানুয়ারি মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নিয়েতোর ওয়াশিংটন সফর করার কথা ছিল। বুধবার নির্বাহী আদেশে সই করার পরপরই ট্রাম্প বলেন, দেয়াল তোলার খরচ না দিলে পেনা নিয়েতোর সফর বাতিল করা উচিত। এরপরই পেনা নিয়েতো সফর বাতিলের ঘোষণা দেন এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শন স্পাইসার ঘোষণা দেন, দেয়ালের খরচ তুলতে মেক্সিকোর কাছ থেকে ২০ শতাংশ হারে রপ্তানি শুল্ক আদায় করা হবে। অবশ্য পরে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ রেইন্স প্রিবাস বলেন, শুধু ট্যাক্সের অর্থেই দেয়াল বানানো হবে তা নয়, এর খরচের অনেকগুলো উৎসের মধ্যে এটি একটি।
ওয়াশিংটনে মেক্সিকোর দূতাবাসে বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুইস ভিদাগেরে বলেন, মেক্সিকোর পণ্যে কর আরোপ দেয়াল বানানোর খরচ জোগানোর পন্থা হতে পারে না। এতে মেক্সিকো থেকে আমদানি করা অ্যাভোকাডো ফল, ওয়াশিং মেশিন ও টেলিভিশন অনেক বেশি দাম দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লোকজনকে কিনতে হবে। তিনি বলেন, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখতে চান। কিন্তু দেয়াল তোলার বিষয়টি কোনোভাবেই সমর্থন করতে পারেন না।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পদত্যাগ
ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম সপ্তাহেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা দলের কয়েকজন কূটনীতিক একযোগে পদত্যাগ করেছেন। তাঁরা হলেন আন্ডার সেক্রেটারি ফর ম্যানেজমেন্ট প্যাট্রিক কেনেডি, দুজন অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জয়েস বার ও মিশেল বন্ড এবং বৈদেশিক মিশন কার্যালয়ের পরিচালক জেন্ট্রি স্মিথ। তাঁরা ছাড়া আরও কয়েকজন কর্মকর্তা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।