২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ১৯:৪২
কুরআন মাহফিল ও তাফসির সম্পর্কে শেখ যাকযাকির নির্দেশনা

নাইজেরিয়ার ইসলামি আন্দোলনের নেতা শেখ ইব্রাহিম যাকযাকি এক ভিডিও বার্তায় মুফাসসির ও আলেমদের প্রতি আল্লাহভীতি অবলম্বন এবং পবিত্র কুরআনের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন/তিনি তাফসিরের মিম্বারকে কটাক্ষ ও অগঠনমূলক বিতর্কের জায়গায় পরিণত করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): শেখ ইব্রাহিম যাকযাকি ভিডিও বার্তায় কুরআনের পবিত্রতা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে মুফাসসিরদেরকে তাদের তাফসির মাহফিলে কঠোর শব্দ ব্যবহার ও বিভেদ সৃষ্টিকারী আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কিছু ব্যক্তি তাফসিরের আধ্যাত্মিক পরিবেশকে সংঘাতের ক্ষেত্রে রূপান্তরিত করছে। শেখ যাকযাকি এ কাজকে কুরআনের প্রতি অসম্মান এবং পবিত্র রমজান মাসের মর্যাদার পরিপন্থী বলে আখ্যায়িত করেন।

শেখ যাকযাকি বলেন, কুরআনের তাফসির কোনো সহজসাধ্য বিষয় নয়। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, একজন মুফাসসির আল্লাহর উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায় ব্যাখ্যা করার অবস্থানে থাকেন, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, যদি কেউ কোনো পার্থিব দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কথা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে, তবে সে ভুল করে। তাহলে কীভাবে কেউ নিজেকে বিশ্বজগতের প্রতিপালকের বাণীকে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে অর্থ করার অনুমতি দিতে পারে?

শেখ যাকযাকি জোর দিয়ে বলেন, তাফসিরের ক্ষেত্রে সবাই প্রবেশের যোগ্য নয়। তিনি ‘যোগ্যতা’ এবং বিশেষ জ্ঞানার্জনকে মুফাসসিরের মৌলিক শর্ত হিসেবে গণ্য করেন। তাঁর মতে, যারা কুরআন বিষয়ক জ্ঞানে যথেষ্ট পারদর্শী নন, তাদের তাফসির করতে নিজেদের বাধ্য মনে করা উচিত নয়। বরং তাদের জন্য শিক্ষার পথে অগ্রসর হওয়া অথবা অভিজ্ঞ আলিমদের ব্যাখ্যা থেকে উপকৃত হওয়া উত্তম।

 আরও বলেন, একজন মুফাসসিরের অবশ্যই নির্ভরযোগ্য উৎস এবং সালাফদের রচনাবলি—যার মধ্যে মাসুর ও লুগাভি তাফসিরসমূহ রয়েছে—সেগুলোতে প্রবেশাধিকার ও দক্ষতা থাকতে হবে এবং সেগুলোতে ধারাবাহিকভাবে রুজু করতে হবে। তিনি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, প্রতিটি মুফাসসিরের জন্য 'উলুমুত তাফসির' বা তাফসিরের জ্ঞানে দক্ষতা অর্জন করা অপরিহার্য ও অনিবার্য।

শেষে তিনি সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞদের কুরআনুল কারিমের মর্যাদা সংরক্ষণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেন যে, তাফসিরের মজলিসকে পরস্পরকে দোষারোপ ও পাল্টা জবাবের ক্ষেত্রে পরিণত করলে তা বিভেদ বিস্তার এবং কালামে পাকের আধ্যাত্মিক বরকত থেকে বঞ্চিত হওয়া ছাড়া আর কিছুই ডেকে আনবে না।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha