১৬ জুলাই ২০২৬ - ১৬:৩৩
শহীদ নেতা ১৫ বছর আগেই হরমুজ প্রণালি বন্ধের কৌশল তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন

ইসলামী ইরানের শহীদ নেতার সামরিক উপদেষ্টা বলেছেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে যা ঘটছে, তা প্রায় ১৫ বছর আগে শহীদ সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশে প্রণীত একটি পরিকল্পনার অংশ।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ইসলামী ইরানের শহীদ নেতার সামরিক উপদেষ্টা বলেন এটি শহীদ নেতার দূরদর্শী ও প্রজ্ঞাপূর্ণ নেতৃত্বেরই প্রমাণ, কারণ তিনি তখনই পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যে একদিন হরমুজ প্রণালিকে কৌশলগত শক্তির একটি উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

শহীদ নেতার সামরিক উপদেষ্টা, আইআরজিসির মেজর জেনারেল সাইয়্যেদ ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘আখেরিন দিদার’ (শেষ সাক্ষাৎ)-এ বলেন, “শহীদ নেতা ছিলেন প্রজ্ঞাবান ও সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিসম্পন্ন।”

তিনি বলেছেন, “১৩৯০ হিজরি শামসি (২০১১-১২) সালে তিনি আমাকে তাঁর সহকারী ও সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবে এক মাসের মধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধের একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে বলেন।

আমি সঙ্গে সঙ্গেই বন্দর আব্বাসে যাই এবং সে সময়ের নৌবাহিনীর কমান্ডার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাভি, তৎকালীন অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার আমির আলী হাজিজাদেহ এবং আইআরজিসির তৎকালীন উপ-কমান্ডার হোসেইন সালামির সঙ্গে বৈঠক করি।

আমরা পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর, লোহিত সাগর থেকে শুরু করে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রস্তুত করে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের কাছে উপস্থাপন করি। পরে তিনি সেই পরিকল্পনা তৎকালীন সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের প্রধান ড. হাসান ফিরুজাবাদির কাছে বাস্তবায়নের জন্য পাঠিয়ে দেন।”

সাফাভি জোর দিয়ে বলেন, “আজ হরমুজ প্রণালিতে যা ঘটছে, তা প্রায় ১৫ বছর আগে শহীদ নেতার নির্দেশিত সেই পরিকল্পনারই একটি অংশ। এটি তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রমাণ, কারণ তিনি তখনই ধারণা করেছিলেন যে একদিন আমরা হরমুজ প্রণালিকে আমাদের কৌশলগত শক্তির একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করব।”

আইআরজিসির সাবেক প্রধান আরও বলেন, শহীদ নেতা সর্বদা ব্যাপক হারে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিতেন। তিনি স্মরণ করেন, “আমি যখন ১৯৯৭ সালে (১৩৭৬ হিজরি শামসি) আইআরজিসির কমান্ডার ছিলাম, তখন আমাদের কাছে ২,০০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘২,০০০টি ক্ষেপণাস্ত্র যথেষ্ট নয়; কয়েক মাসব্যাপী যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা অর্জনের জন্য এই সংখ্যা কয়েক দশ হাজারে উন্নীত করতে হবে।’”

মেজর জেনারেল সাফাভি আরও বলেছেন, শহীদ নেতা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইরানের সার্বিক অগ্রগতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। তাঁর ভাষায়, “শহীদ নেতা সবসময় বলতেন, ইরানকে উন্নত হতে হবে এবং অন্যান্য দেশের জন্য একটি আদর্শে পরিণত হতে হবে। এটাই ছিল তাঁর উন্নয়ন ও অগ্রগতির দৃষ্টিভঙ্গি। 

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha