২৯ মার্চ ২০২৬ - ২০:৩৪
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাসের বড় আন্দোলন

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দেশটির বিভিন্ন শহরে লাগাতার ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ চলছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা):  ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এবার দেশটির ৫০ রাজ্যেই ‘নো কিংস’ আন্দোলনে রাজপথে নামছে লাখ লাখ মানুষ।


আয়োজক সংগঠন ইনডিভিজিবলের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার (২৮ মার্চ) দেশটির তিন হাজার ২০০টির বেশি স্থানে এই কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, এটি দেশের ইতিহাসে এক দিনে সবচেয়ে বড় অহিংস প্রতিবাদে পরিণত হতে পারে। এর আগের দুই দফার কর্মসূচিতেও লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিল।

কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, ওয়াশিংটন ডিসি ও মিনেসোটার টুইন সিটিজে বড় সমাবেশ হবে। তবে অংশগ্রহণকারীদের বড় একটি অংশ ছোট শহর ও উপশহর থেকে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ ধরনের এলাকায় অংশগ্রহণ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

শনিবার তৃতীয় দফায় ‘নো কিংস ডে অব অ্যাকশন’ পালিত হবে। গত বছর ১৪ জুন ট্রাম্পের জন্মদিনে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। প্রথম কর্মসূচিতে প্রায় ২ হাজার ১০০ স্থানে ৪০ থেকে ৬০ লাখ মানুষ অংশ নেন। পরে অক্টোবরে দ্বিতীয় দফায় ২ হাজার ৭০০টির বেশি শহরে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ যোগ দেন বলে জানা গেছে।

অক্টোবরের বিক্ষোভ মূলত সরকারি কার্যক্রম বন্ধ, অভিবাসন দমন অভিযান এবং বড় শহরগুলোতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের প্রতিবাদে ছড়িয়ে পড়ে। এবারের বিক্ষোভ এমন সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা ঘিরে চার সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা চলছে। আয়োজকরা এই যুদ্ধের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানাতে মানুষকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন।

আন্দোলনটির অন্যতম আয়োজক সংগঠন ইনডিভিজিবল গত বছরও ‘নো কিংস’ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় কট্টর রিপাবলিকান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আইডাহো, ওয়াইওমিং, মন্টানা ও উটাহেও অংশগ্রহণ বেড়েছে। একইভাবে পেনসিলভানিয়া, জর্জিয়া ও অ্যারিজোনার গুরুত্বপূর্ণ উপশহরগুলোতেও বাড়ছে সক্রিয়তা।

অধিকার সংগঠন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের প্রধান রাজনৈতিক ও অ্যাডভোকেসি কর্মকর্তা ডেইরড্রে শিফেলিং বলেন, এ ধরনের আন্দোলনের বাস্তব প্রভাব পড়েছে। তার দাবি, জনচাপের মুখে প্রশাসন একাধিক সিদ্ধান্তে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।

ইনডিভিজিবলের সহপ্রতিষ্ঠাতা লিয়া গ্রিনবার্গ বলেন, এবারের বিক্ষোভের গুরুত্ব শুধু মানুষের সংখ্যায় নয়, বরং তারা কোথায় রাস্তায় নামছে, সেটিতেও। ছোট শহর ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ উপশহরগুলোতেই এখন সবচেয়ে বেশি সাড়া মিলছে।

তিনি আরও বলেন, ‘যারা ভোটের ফল নির্ধারণ করেন, যারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালান, ভোটার নিবন্ধন করেন, তারাই এখন রাস্তায় নেমেছেন এবং তারা ক্ষুব্ধ।

তবে হোয়াইট হাউস এই আন্দোলনকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। এক বিবৃতিতে মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন এসব সমাবেশকে ‘ট্রাম্প ডিরেঞ্জমেন্ট থেরাপি সেশন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha