২৩ মে ২০২৬ - ১৮:২৮
ইসরাইলকে রক্ষা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ সুরক্ষায় টান

ইসরাইলকে ইরানি হামলা থেকে রক্ষা করতে গিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের নিজস্ব বাহিনীর চেয়েও বেশি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাকবচ ব্যবহার করেছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই (এমইই) জানিয়েছে, মিত্রদেশকে রক্ষা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পড়া এই বিপুল চাপের কারণে বর্তমানে মার্কিন আকাশসুরক্ষা মজুদে মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিয়েছে।



যুদ্ধের চরম উত্তেজনার সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য মিত্ররা ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের অনুরোধ জানালে মার্কিন প্রশাসন তা প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য হয়। বিপরীতে, ইসরাইল অবশ্য তাদের ঘনিষ্ঠ আরব অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাতকে রক্ষায় আয়রন ডোম ব্যাটারি ও সামরিক কর্মী পাঠিয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের সুরক্ষায় মার্কিন বাহিনী দুই শতাধিক ‘টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স’ (থাড) ইন্টারসেপ্টর উৎক্ষেপণ করেছে, যা পেন্টাগনের মোট মজুদের প্রায় অর্ধেক।

এর বাইরেও পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা যুদ্ধজাহাজ থেকে আরও শতাধিক স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৩ (এসএম-৩) এবং স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৬ (এসএম-৬) ইন্টারসেপ্টর ছুড়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এর বিপরীতে, ইসরাইল নিজে ১০০টিরও কম অ্যারো ইন্টারসেপ্টর এবং প্রায় ৯০টি ডেভিডস স্লিং ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে। ডেভিডস স্লিং মূলত ইয়েমেনের হুথি এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে ব্যবহৃত হয়েছে, যাদের কাছে ইরানের মতো এত উন্নত প্রযুক্তি বা ড্রোন নেই।

ওয়াশিংটন পোস্ট এই পরিস্থিতিকে দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘অসম বা একতরফা গতিশীলতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। থিংক ট্যাংক কুইন্সি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পার্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বিষয়টিকে ‘স্তব্ধ করার মতো’ বলে মন্তব্য করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিসংখ্যানগুলো দেখার পর অনেকেই যদি ইরান যুদ্ধকে ‘ইসরাইল প্রথম’ নীতি হিসেবে বিবেচনা করেন, তবে তা খুবই স্বাভাবিক। কারণ, ইসরাইল নিজে যতটা ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে, যুক্তরাষ্ট্র তার চেয়ে অনেক বেশি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ শেষ করেছে কেবল ইসরাইলকে বাঁচাতে।

চলমান এই লড়াইটি মূলত একটি প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছিল—যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল চেষ্টা করছিল ইরানের ভেতরে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎক্ষেপণ যানগুলো ধ্বংস করতে, আর ইরান চেষ্টা করছিল মার্কিন, ইসরাইলি ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ইন্টারসেপ্টরের মজুদ ফুরিয়ে যাওয়া পর্যন্ত টিকে থাকতে।

নিউইয়র্ক টাইমসের গত সপ্তাহের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের যে পরিমাণ মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যান এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ছিল, তার প্রায় ৭০ শতাংশই এখনো অক্ষত রয়েছে।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha