আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): হিব্রু ভাষার বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের গ্যালিলি অঞ্চল ও এর আশপাশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার ফলে বিভিন্ন শহর ও বসতিতে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং হাজার হাজার বাসিন্দা বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, অভিযানের প্রথম ধাপে অন্তত আটটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যার মধ্যে একটি কিরায়াত শিমোনা শহরের একটি স্থাপনায় আঘাত হানে।
হিজবুল্লাহ শনিবার সকালে এক বিবৃতিতে জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অবস্থান ও সামরিক সরঞ্জামের বিরুদ্ধে ২২টি সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।
সংগঠনটির দাবি, এসব অভিযান ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা এবং দক্ষিণ লেবাননের ঘরবাড়ি ও গ্রাম ধ্বংসের প্রতিক্রিয়া হিসেবে চালানো হয়েছে।
মার্চের শুরু থেকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ২৪ জন ইসরায়েলি সৈন্য ও বসতি স্থাপনকারী নিহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৩ জন সেনাসদস্য।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বুধবার ঘোষণা করে যে লেবাননের জাহরানি নদীর দক্ষিণের সমস্ত এলাকা “যুদ্ধাঞ্চল” হিসেবে বিবেচিত হবে। এই অঞ্চলটি সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
সেনাবাহিনী বাসিন্দাদের এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দেয় এবং জানায় যে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। এটি ১৭ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বিস্তৃত সতর্কবার্তা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে হিজবুল্লাহর ফার্স্ট-পার্সন ভিউ ড্রোনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো ছোট আকারের, কম খরচের এবং বিস্ফোরকবাহী আত্মঘাতী ড্রোন।
এসব ড্রোনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো একটি দীর্ঘ ফাইবার-অপটিক কেবল, যা ড্রোনকে সরাসরি নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে সংযুক্ত রাখে। ফলে ভিডিও ও নিয়ন্ত্রণ সংকেত বেতার যোগাযোগ ছাড়াই আদান-প্রদান হয় এবং ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের প্রভাব থেকে অনেকাংশে সুরক্ষিত থাকে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ড্রোনগুলো সৈন্য সমাবেশ, ট্যাংক ও অন্যান্য সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে এবং রাডার ও তাপ-সনাক্তকরণ ব্যবস্থাকে এড়িয়ে যেতে পেরেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
হিব্রু ভাষার সংবাদপত্র মারিভ এসব ড্রোনকে “ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন” হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং দাবি করেছে যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রভাব হারাচ্ছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল লেবাননে সম্প্রসারিত সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
সেখানে দাবি করা হয়েছে যে এ সময়ে ৩,২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত, ৯,৬০০ জনের বেশি আহত এবং ১৬ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
Your Comment