আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত ২৬ বছরের মধ্যে লেবাননের অভ্যন্তরে এটিই ইসরায়েলের সবচেয়ে গভীরতম অনুপ্রবেশ।
আইডিএফ-এর দাবি, মূলত বিউফোর্ট রিজ এবং ওয়াদি আল-সালুকি এলাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং সেখানে অবস্থানরত ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ঐতিহাসিক এই দুর্গের চূড়ায় ইসরায়েলি ও গোলানি ব্রিগেডের পতাকা ওড়ানোর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ একে একটি ‘কৌশলগত বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এদিকে এই অভিযানে নিজেদের এক সেনা সদস্য নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে আইডিএফ। তবে এই দুর্গ হাতছাড়া হওয়ার বিষয়ে লেবানন সরকার বা হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের দাবি, এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পরও উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা থামেনি। বিশেষ করে এই বিউফোর্ট রিজ এলাকাটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে হিজবুল্লাহ শত শত রকেট ও প্রজেক্টাইল বেসামরিক নাগরিক ও সেনাদের লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করেছে। শনিবারও উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর ব্যাপক রকেট হামলার পর কয়েকটি এলাকায় স্কুল বন্ধ এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করতে বাধ্য হয় ইসরায়েল প্রশাসন।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচুতে অবস্থিত এই বিউফোর্ট দুর্গ দখলের ফলে ইসরায়েলি বাহিনী এখন দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এবং উত্তর ইসরায়েলের ওপর কৌশলগত নজরদারির একচেটিয়া সুবিধা পাবে। এর পাশাপাশি হিজবুল্লাহর অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ শহর নাবাতিয়েহর আশপাশেও ইসরায়েলি সেনারা তাদের অগ্রযাত্রা ও অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৮২ সালের লেবানন যুদ্ধের সময় এই ঐতিহাসিক দুর্গটি দখল করেছিল ইসরায়েল এবং ২০০০ সালে সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করার আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ বছর এটি তাদের অন্যতম প্রধান সামরিক বেস হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
Your Comment