আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে, ইরানের নেতারা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ করার জন্য কোনো চুক্তিতে পৌঁছাননি, কারণ তারা শক্তিশালী ও গর্বিত।
উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের চিপেওয়া ফলসে এনবিসি নিউজের মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলে, “তারা শক্তিশালী, তারা গর্বিত। ”
ট্রাম্পের এ মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নেতারা যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত সপ্তাহে সংঘাতটি চতুর্থ মাসে প্রবেশ করেছে।
দুই দেশ এপ্রিল মাসে একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, যা কয়েকবার বাড়ানো হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালির কাছে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে উত্তেজনা আবার বেড়ে যায়।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মর্কো রুবিও বুধবার কংগ্রেসের সদস্যদের জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন যাকে “অপারেশন এপিক ফিউরি” নামে অভিহিত করেছে, সেই সামরিক অভিযান “সমাপ্ত হয়েছে”।
রুবিও বলে, “আমাদের বাহিনীকে রক্ষা করার জন্য আমরা শুধু ড্রোনে আঘাত করি না, যারা ড্রোন ছোড়ে তাদেরও লক্ষ্য করি। এগুলো সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ। ”
চলমান সংঘাতের কারণে ইরান কয়েক মাস আগে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্যও বৃদ্ধি পায়। এতে ট্রাম্প ও রিপাবলিকান নেতাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমানোর জন্য চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবারের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দ্রুত চুক্তি করার আহ্বান জানানো সমালোচকদের সমালোচনা করে বলে, “এ ধরনের বিষয় সমাধান করতে বছরের পর বছর সময় লাগে।”
ট্রাম্প এই সংঘাতের সময়কালকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে বলে, “আমি খুব দ্রুত এগোচ্ছি। আমি মাত্র তৃতীয় মাসে আছি। ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯ বছর স্থায়ী হয়েছিল। অথচ সবাই জিজ্ঞেস করছে, ‘কবে জিতবেন?’”
ট্রাম্প আরও দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে “প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস” করেছে, যদিও ইরানের কাছে এখনো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষায়, “ড্রোন কারখানার অধিকাংশ ধ্বংস করা হয়েছে, অধিকাংশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগও ধ্বংস হয়েছে। তবে তাদের এখনো কিছু সক্ষমতা রয়েছে। আমার মতে, তাদের আগের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ এখনো রয়েছে।”
Your Comment