আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): কোরআনের মফাস্সির হযরত আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমুলি ৩৩তম আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রেরিত এক ভিডিও বার্তায় মহান আল্লাহর প্রশংসা, নবীগণ, আহলে বাইত (আ.) এবং হযরত সিদ্দিকা তাহেরা (সা.)-এর প্রতি দরূদ প্রেরণ করে উপস্থিত আলেম, চিন্তাবিদ ও বৈজ্ঞানিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে সম্বোধন করেন।
মারজায়ে তাকলিদ, কোরআনের মুফাস্সির বলেন: পবিত্র কুরআন শুধুমাত্র নিজেকে বিশ্বজনীন গ্রন্থ হিসেবে ঘোষণা করেনি এবং বলেনি যে সমগ্র বিশ্বের জন্য বার্তাবাহক; বরং সে বার্তাকে জ্ঞানভোজ ও জ্ঞানের দাওয়াতের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছে।
পবিত্র কুরআনে জ্ঞানের দুটি অংশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এক অংশ হলো প্রচলিত জ্ঞান, যেখানে বলা হয়েছে: “يُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ”—তিনি তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন।
এই জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত ফিকহ, উসূল, আইন প্রভৃতি। আরেক অংশ হলো কুরআনের বিশেষ জ্ঞান, যেখানে এমন এক ধারাবাহিক বিষয় রয়েছে যা অতীতে ছিল না এবং বর্তমান যুগেও নেই। মহানবী (সা.)-কে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে—আপনার অসাধারণ মেধা থাকা সত্ত্বেও, যদি কুরআন না থাকত, তবে আপনি এসব জ্ঞানে পৌঁছাতে পারতেন না।
মানবসমাজকেও বলা হয়েছে—তোমরা যতই উন্নতি করো এবং বৈজ্ঞানিক শক্তি অর্জন করো না কেন, কুরআন ছাড়া এসব তত্ত্বে পৌঁছাতে পারবে না।
এই দ্বিতীয় অংশটি পবিত্র কুরআনের বিশেষ অবদান। এটি যেমন ইসলামী উম্মাহ ও সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রযোজ্য, তেমনি নবী (সা.)-কেও উদ্দেশ করে বলা হয়েছে—“يُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ”-এর পাশাপাশি রয়েছে “وَيُعَلِّمُكُمْ مَا لَمْ تَكُونُوا تَعْلَمُونَ”—এবং তিনি তোমাদের তা শিক্ষা দেন, যা তোমরা জানতে না।
আল্লাহ তাআলা নবী (সা.)-কে বলেন—তিনি আপনাকে এমন কিছু শিক্ষা দিয়েছেন, যা আপনার অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও ওহি ছাড়া শেখা সম্ভব ছিল না। এই আসমানের নিচে কুরআন ছাড়া এমন কোনো গ্রন্থ নেই, যা আপনাদেরকে এ বিষয়গুলো জানায়—আর তা হলো “মানবের চিরন্তন সত্তার জ্ঞান।”
Your Comment