আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): চল্লিশ হিজরীতে খারেজীদের একদল চক্রান্তমূলক পরিকল্পনা করে যে ,হযরত আলী (আ.),মুয়াবিয়া ও আমর ইবনে আসকে যথাক্রমে নির্দিষ্ট সময়ে হত্যা করবে। পবিত্র রমযান মাসের ১৯ তারিখের রাত্রে হত্যার তারিখ নির্ধারণ করা হলো। এ পরিকল্পনা কার্যকরী করার জন্য আবদুর রহমান ইবনে মুলজাম হযরত আলী (আ.) কে হত্যা করবে ,মুয়াবিয়াকে হত্যা করবে হাজ্জাজ ইবনে আবদুল্লাহ্ সূরাইমী এবং আমর আসকে হত্যা করবে আমর ইবনে বাকর তামীমী নির্দিষ্ট করে।
এ উদ্দেশ্যে ইবনে মুলজাম কুফায় যায় এবং একজন খারেজীর গৃহে আশ্রয় নেয়, সেখানে কোতামাহ নামে এক নারীর প্রতি আকৃষ্ট হয়। অতঃপর তার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার চিন্তা করল।
যখন তাকে বিবাহের প্রস্তাব দিল, সে বলল: আমার দেন মোহর হিসেবে চাই আলী ইবনে আবি তালিবের হত্যা। কোতামাহ পূর্ব থেকেই নাহরাওয়ানের যুদ্ধে তার পিতা ও ভাই ,হযরত আলী (আ.)-এর হাতে নিহত হওয়ার ফলে তাঁর প্রতি শত্রুতা পোষণ করত এবং চরম প্রতিহিংসায় জ্বলছিল।
ইবনে মুলজাম, কোতামাহর কাছে প্রকাশ করে যে, ঘটনাক্রমে আমি এ কর্ম সম্পাদনের জন্যেই কুফায় এসেছি ? আর এভাবেই ইবনে মুলজামের পূর্ব পরিকল্পনা কোতামাহর কামাতুর প্রেমের ছোঁয়ায় দৃঢ়তর হয়।
অবশেষে সে বিষাদ রজনী উপস্থিত হলো ইবনে মুলজাম এ কলুষ চিন্তা মাথায় নিয়ে মসজিদে রাত্রিযাপন করল...।
এ বিষাদময় রজনী সম্পর্কে পূর্বে হযরত আলী (আ.) মহানবীর নিকটে জানতে পেরেছিলেন যে ,তিনি রমযান মাসে শহীদ হবেন। বলেন :...যখন মহানবী (সা.) রমযান মাসের ঐ বিখ্যাত খোতবাটি পাঠ করলেন ,আমি উঠে দাঁড়ালাম ও জানতে চাইলাম : হে আল্লাহর রসূল (সা.)! এ মাসের উৎকৃষ্ট কর্মসমূহ কি কি ?তিনি বললেন : পাপাচার থেকে দূরে থাকা। অতঃপর মহানবী (সা.) বেদনাগ্রস্থ হয়ে কাঁদলেন এবং এ মাসে আমার শাহাদাত সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করলেন...। (উয়ুনু আখবারির রিজা ,১ম খণ্ড ,পৃ. ২৯৭)
ইমামের কথাবার্তা ও আচার-আচরণেও সুস্পষ্ট ছিল যে ,এ মাসে তিনি শাহাদাত বরণ করবেন। ইমাম বলেছিলেন : ‘এ বছর হজ্জের সময় আমি তোমাদের মাঝে থাকব না।
ইমাম ১৯ রমজানের রাতে বিন্দুমাত্র নিদ্রা গ্রহণ করেন নি। অধিকাংশ সময় বলতেন : আল্লাহর শপথ অদ্যরজনী সেই প্রতিশ্রুত রজনী। (এরশাদ ,শেখ মুফিদ ,পৃ. ১৫১)
অবশেষে ফজরের সময় যখন হযরত আলী (আ.) মসজিদে এলেন। ফজরের নামায পড়া অবস্থায় নিকৃষ্টতম ব্যক্তি ইবনে মুলজামের বিষাক্ত রক্তলোলুপ তরাবারি হযরত আলীর উপর হানা হলো। আর সেই সাথে সত্যের মেহরাবে রঞ্জিত হলো বিভাকর। এর দু ’ দিন পর একুশে ২১রমজানের রাতে সন চল্লিশ হিজরীতে অস্তমিত হলো রঞ্জিত রবি। (এরশাদ ,শেখ মুফিদ ,পৃ. ৫ ;বিহারুল আনওয়ার ,৪২তম খণ্ড ,পৃ. ২৮১)
তাঁর পবিত্র দেহ নাজাফের পবিত্র মাটিতে সমাহিত করা হলো ,যা আজ মুসলমানদের বিশেষ করে শিয়াদের হৃদয় মণিতে পরিণত হয়েছে।
যখন ইবনে মুলজামের তরবারি তাঁর দীপ্তিময় মাথায় আঘাত হানল ,তখন প্রথম যে কথাটি তিনি উচ্চারণ করেছিলেন তা হলো
فزت وربّ الكعبة
“ কাবার প্রভুর শপথ ,আমি সফলকাম হলাম। ”
অতঃপর তাঁকে রক্তে রঞ্জিত অবস্থায় গৃহে নিয়ে আসা হলো...। শাহাদাতের শয্যায় দু ’ দিন পর শাহদত বরণ করলেন। মানুষের জন্য বর্ণনা করলেন...।
Your Comment