আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছে, “ইরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হুমকি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে দেবে—প্রথমে সবচেয়ে বড় কেন্দ্রটিতে” ।
এই হুমকির জবাবে ইরানের খাতামুল আম্বিয়া সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাকারি এক বিবৃতিতে বলেন, “পূর্ববর্তী সতর্কবার্তার পর, যদি ইরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং এই অঞ্চলের শাসকগোষ্ঠীর মালিকানাধীন সমস্ত শক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি ও লবণাক্ত পানি পরিশোধন পরিকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।”
এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর মানচিত্র প্রকাশ করে জানানো হয়, এসব কেন্দ্রে ‘পিন-পয়েন্ট’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বিশ্বের তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশের জন্য পথ নির্ধারণ করে রাখে। সম্প্রতি ইরানের হামলায় কাতারের এলএনজি সক্ষমতার ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মেরামতে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে।
এ অবস্থায় ট্রাম্পের আল্টিমেটাম ও ইরানের পাল্টা হুমকি আঞ্চলিক উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
এর আগেও একই ধরনের হুমকি দিয়ে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো ধ্বংসের কথা বলেন। ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিল, সে ইচ্ছাকৃতভাবে তেহরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা এড়িয়ে গেছে, কারণ এতে বেসামরিক জনগণের ‘ট্রমা’ সৃষ্টি হবে।
ট্রাম্পের ওই হুমকির প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি এক তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা এক ঘণ্টায় ইরানের বিদ্যুৎ সক্ষমতা ধ্বংস করতে পারি, কিন্তু তা করিনি।’ যদি তারা তা করে, তবে আধা ঘণ্টার মধ্যেই গোটা অঞ্চল অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। আর এই অন্ধকার আমেরিকান সেনাদের শিকার করতে যথেষ্ট সুযোগ এনে দেবে, যারা তখন প্রাণ বাঁচাতে ছুটবে” ।
ট্রাম্পের অযৌক্তিক কথার উপযুক্ত জবাব
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা লারিজানি আরও বলেন, “ইরানের আশুরার জনগণ তোমাদের ফাঁকা হুমকিতে ভয় পায় না। তোমাদের চেয়েও বড় শক্তিগুলো ইরানকে ধ্বংস করতে পারেনি। তোমরা নিজেদের ধ্বংস হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থেকো।”
বিশ্বের তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশের পথ নির্ধারণকারী এই জলপথ ইতোমধ্যে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
Your Comment