২৫ মার্চ ২০২৬ - ১৩:৪১
সব ক্ষতিপূরণ না নেয়া পর্যন্ত যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে

ইরানের নীতি-নির্ধারণি পরিষদের সদস্য ও ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল মোহসেন রেযায়ি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের কোনও অবকাঠামোর ওপর হামলা হলে ইরানের জবাব হবে এতই ধ্বংসাত্মক যে তাতে শত্রুরা অচল হয়ে পড়বে এবং তারা পারস্য উপসাগরে ডুবে যাবে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ-অবকাঠামোর ওপর হামলার হুমকি দেয়ার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে মোহসিন রেযায়ি এই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। 



তিনি বলেছেন, 'তারা যদি ভুল করে তাহলে আমরা পারস্য উপসাগরে তাদের ডুবিয়ে দেব তাদেরকে অচল করে দেয়ার পর'। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সমস্ত ক্ষতিপূরণ না নেয়া পর্যন্ত চলমান যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি ঘোষণা করেছেন।

ইরানের ওপর সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া এবং ইরানের বিষয়ে মার্কিন সরকার কোনও হস্তক্ষেপ করবে না ও আর কখনও ইরানে হামলা চালাবে না-এই মর্মে আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা আদায় করাও যুদ্ধ বন্ধের অন্যতম শর্ত বলে রেজায়ি উল্লেখ করেছেন। 

মোহসেন রেযায়ি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেছেন, 'তাকে বলব যে যদি আঘাত কর তাহলে চোখের বদলে চোখ নয়, চোখের বদলে মাথা নেয়া হবে এবং পারস্য উপসাগরে ডুবিয়ে দেয়া হবে'। 

রেযায়ি বলেছেন, 'তাদের জানা উচিত যে মার্কিনিদের রক্ষার সময়-সীমা শেষ হয়ে আসছে এবং এই অচলাবস্থা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মুক্ত করার জন্য তাদের বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের হাতে সময় খুব কমই রয়েছে'।

আরো বলেছেন, তারা এখন সর্বোচ্চ শক্তিধর বলে ভাবছে নিজেদের এবং ইরানের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তারা চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করতে চায়।

তিনি আরব দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, 'ওদের ষড়যন্ত্র কেবল ইরান পর্যন্ত সীমিত নয়, বরং গোটা অঞ্চল গ্রাসই তাদের লক্ষ্য; যদি আরব সরকারগুলো জানত যে এ অঞ্চলে তাদের অশুভ পরিকল্পনার স্বরূপ কী তাহলে তারা আজ আমাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করত'।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কোনও ধরনের উস্কানি ছাড়াই পরমাণু বিষয়ে পরোক্ষ সংলাপ চলার অবকাশে ইরানের ওপর আগ্রাসন শুরু করে এবং ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন উচ্চ-পদস্থ সামরিক কমান্ডার ও শত শত শিশুসহ বহু বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে।

জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ও ইসরায়েলি অবস্থানগুলোকে টার্গেট করে এ পর্যন্ত প্রায় ৮০টি পাল্টা অভিযান পরিচালনা করেছে শত শত বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha