২৭ মার্চ ২০২৬ - ১০:৩০
একদিনে ৯০ হামলার রেকর্ড: হিজবুল্লাহর নজিরবিহীন আঘাতে কাঁপল তেল আবিব

লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ একদিনে অন্তত ৯০টি সামরিক অভিযান চালিয়ে ইসরায়েলি স্থাপনাগুলোর ওপর নজিরবিহীন আঘাত হেনেছে। ২৫ মার্চ ২০২৬-এ পরিচালিত এই ব্যাপক হামলাকে চলমান সংঘাতের অন্যতম বৃহত্তম পাল্টা অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): সীমান্তজুড়ে তীব্র সংঘর্ষ; লেবাননের দক্ষিণ সীমান্তবর্তী কৌযাহ, তাইবেহ, দেবল, নাকুরা, খিয়াম, মারুন আল-রাসসহ বিভিন্ন এলাকায় হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা সরাসরি ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।



এ সময় লক্ষ্যবস্তু করা হয়: ইসরায়েলি উদ্ধারকারী ইউনিট, মেরকাভা ট্যাংক, সামরিক হামার যান ও ডি-৯ বুলডোজার


ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় আঘাত হানে শোমেরা ব্যারাক, মেরন ঘাঁটি এবং বিভিন্ন সীমান্তবর্তী সেনা অবস্থান। এছাড়া, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানকে পিছু হটতে বাধ্য করা হয় এবং একটি হেলিকপ্টারেও আঘাত হানার দাবি করা হয়েছে।

উত্তর ইসরায়েলে ব্যাপক রকেট বর্ষণ; উত্তরাঞ্চলের কিরিয়াত শেমোনা, নাহারিয়া, সাফাদ, হাইফার উত্তরের ক্রায়ট এলাকা এবং গোলান মালভূমির বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক রকেট হামলা চালানো হয়। প্রায় ৯০ মিনিটে ১০০টিরও বেশি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

কৌশলগত স্থাপনায় আঘাত; হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল: দাদো (উত্তর কমান্ড) সদর দপ্তর, মেরন নজরদারি ঘাঁটি, সামরিক লজিস্টিক কেন্দ্র এবং রাফায়েল সামরিক শিল্প কমপ্লেক্স

তেল আবিবে নির্ভুল হামলা; হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানায়, তারা রাজধানী তেল আবিব-এর কেন্দ্রে অবস্থিত ইসরায়েলের যুদ্ধ মন্ত্রালয়ে নির্ভুল ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।  শহরের উত্তরের ডলফিন গোয়েন্দা ব্যারাকও এই হামলার আওতায় এসেছে। তবে এখনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

প্রতিশোধমূলক অভিযান ও নতুন মাত্রা; লেবাননে বেসামরিক জনগণ ও অবকাঠামোর ওপর ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে হিজবুল্লাহ।

সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনটির সামরিক তৎপরতায় দেখা যাচ্ছে: দ্রুত ও সমন্বিত হামলা, প্রায় প্রতি ঘণ্টায় গড়ে দুটি অভিযান এবং ২০০ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানার সক্ষমতা। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক ও উচ্চমাত্রার হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে নতুন এক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha