১৫ মে ২০২৬ - ১১:০৭
ইরান কখনো হুমকির কাছে মাথা নত করবে না

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, ইরানি জনগণ কখনো বাহ্যিক চাপ বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, ইরানি জনগণ কখনো বাহ্যিক চাপ বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী জনগণের অধিকার রক্ষায় সর্বশক্তি নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে।



ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে আরাঘচি বলেন, গত এক বছরের মধ্যে ইরান দুইবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের “নৃশংস ও অবৈধ আগ্রাসনের” শিকার হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, এসব হামলার পেছনে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এজেন্সি এবং এমনকি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নেরও বিরোধী। তার ভাষায়, ইরান স্বাধীন দেশগুলোর মতোই “অবৈধ সম্প্রসারণবাদ ও যুদ্ধ উসকানির” শিকার।

আরাঘচি বলেন, “আমরা কি স্বাধীনতার আদর্শ থেকে সরে এসেছি? আমরা কি সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি? উত্তর স্পষ্ট—আমরা করিনি, কখনও করবও না।”

তিনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী, চিকিৎসাকর্মী, শিক্ষক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজেদের নিরাপত্তার আগে জনগণের জীবন রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

“ইরান ভাঙার নয়”

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এখন সবার বোঝা উচিত যে ইরানকে ভাঙা যাবে না। চাপের মুখে দেশটি আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠে।”

তিনি বলেন, ইরান নিজের স্বাধীনতা ও ভূখণ্ড রক্ষায় লড়াই করতে প্রস্তুত, তবে একই সঙ্গে কূটনীতির পথেও অঙ্গীকারবদ্ধ।

আরাঘচি পুনর্ব্যক্ত করেন যে ইরান-সংক্রান্ত কোনো সমস্যার সামরিক সমাধান নেই। তিনি বলেন, “আমরা ইরানিরা কখনও চাপ বা হুমকির কাছে মাথা নত করি না, তবে সম্মানের ভাষার জবাব সম্মান দিয়েই দিই।”

তার ভাষায়, ইরানের জনগণ শান্তিপ্রিয় এবং যুদ্ধ চায় না, কিন্তু প্রয়োজনে বিদেশি আগ্রাসনের জবাবে “ধ্বংসাত্মক প্রতিশোধ” নিতে সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

ব্রিকসকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান

আরাঘচি বলেন, ব্রিকস একটি নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থার প্রতীক, যেখানে “গ্লোবাল সাউথ” বিশ্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি অভিযোগ করেন, পতনশীল সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার উত্থান ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

তার মতে, ইরানের লড়াই শুধু নিজের জন্য নয়, বরং “আমাদের সবার জন্য এবং আমরা যে নতুন বিশ্ব গড়ে তুলছি তার জন্য।”

তিনি বলেন, “আমাদের সাহসী সৈন্যরা পশ্চিমা আধিপত্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের দায়মুক্তির মানসিকতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে জীবন দিয়েছে।”

আরাঘচি আরও বলেন, ব্রিকসভুক্ত বহু দেশই যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও জবরদস্তির শিকার। তাই সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উচিত একযোগে এই ধরনের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিন্দার আহ্বান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিকস সদস্য রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানান, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর স্পষ্ট নিন্দা জানায়।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং যুদ্ধ উসকানিদাতাদের দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে।

আরাঘচির ভাষায়, “ব্রিকস একটি আরও ন্যায়সঙ্গত, ভারসাম্যপূর্ণ ও মানবিক বৈশ্বিক ব্যবস্থা গঠনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হতে পারে এবং হওয়া উচিত—যেখানে শক্তিই ন্যায় নির্ধারণ করবে না।”

শেষে তিনি বলেন, “যে জাতিগুলো নিজেদের মর্যাদা ও স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়ায়, তারা কষ্ট সহ্য করতে পারে, কিন্তু কখনও পরাজিত হয় না।”

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha