১৭ জুন ২০২৬ - ১৫:২২
কারবালায় ইমাম হুসাইন  (আ.)-এর কাফেলার প্রবেশ-দ্বিতীয় পর্ব

ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর সঙ্গীদের সম্মতিক্রমে ৬১ হিজরি সনে মহররম মাসের দ্বিতীয় তারিখে কারবালা ভূমিতে প্রবেশ করেন।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর সঙ্গীদের সম্মতিক্রমে ৬১ হিজরি সনে মহররম মাসের দ্বিতীয় তারিখে কারবালা ভূমিতে প্রবেশ করেন [১] যা আশুরার মহান মহাকাব্যের সূচনা [২]।



আহলে বাইত (আ.)-এর কারবলার মাসায়েব শুরু হয়েছিল মহররম মাসের দ্বিতীয় দিনে, যখন তাঁরা কারবালায় প্রবেশ করেন এবং দিন দিন তাঁদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে থাকে।[৩]

 ইমাম হুসাইন (আ.) যখন কারবালায় প্রবেশ করলেন, তিনি প্রথমে তাঁর সঙ্গীদের উদ্দ্যশ্যে বললেন:

«النَّاسُ عَبيدُ الدُّنْيا وَ الدِّينُ لَعِقٌ عَلى أَلْسِنَتِهِمْ، يَحُوطُونَهُ ما دَرَّتْ مَعايِشُهُمْ، فَإِذا مُحِّصُوا بِالْبَلاءِ قَلَّ الدَّيَّانُونَ؛

মানুষ এই দুনিয়ার দাস এবং ধর্ম তাদের জিহ্বার ডগায় থাকা কোনো কিছুর মতো। যতক্ষণ তাদের জীবন সমৃদ্ধ থাকে, ততক্ষণ তারা একে আঁকড়ে ধরে থাকে, কিন্তু যখন তারা কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়, তখন বিশ্বাসীর সংখ্যা কমে যায়।"[৪]

তারপর ইমাম জিজ্ঞাসা করলেন: এটা কি কারবালা? তারা উত্তর দিল: হ্যাঁ, হে নবীর পুত্র! ইমাম বললেন:

«هذا مَوْضِعُ كَرْبٍ وَ بَلاءٍ، ههُنا مَناخُ رِكابِنا، وَ مَحَطُّ رِحالِنا، وَ مَقْتَلُ رِجالِنا، وَ مَسْفَكُ دِمائِنا؛

“এটা সেই দুঃখ ও দুর্যোগ এবং কষ্ট ও পরীক্ষার স্থান, এখানে আমাদের উটগুলির বিশ্রামস্থল, আমাদের কাফেলাগুলোর থামার জায়গা, আমাদের পুরুষদের শহীদ হওয়ার স্থান এবং আমাদের রক্ত প্রবাহিতের স্থান।”[৫],[৬]

সাইয়্যিদ ইবনে তাউস তার মাকতাল লাহুফ গ্রন্থে আবা আবদিল্লাহিল-হুসাইন (আ.)-এর কাফেলার আগমন সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন:

فَلَمَّا وَصَلَهَا قَالَ: مَا اسْمُ هَذِهِ الْأَرْضِ فَقِيلَ: كَرْبَلَاءُ فَقَالَ‌: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَرْبِ وَ الْبَلَاءِ ثُمَّ قَالَ: هَذَا مَوْضِعُ كَرْبٍ وَ بَلَاءٍ انْزِلُوا هَاهُنَا مَحَطُّ رِحَالِنَا وَ مَسْفَكُ دِمَائِنَا وَ هُنَا مَحَلُّ قُبُورِنَا بِهَذَا حَدَّثَنِي جَدِّي رَسُولُ اللَّه‌.

যখন (ইমাম হুসাইনের কাফেলা) কারবালায় পৌঁছাল, ইমাম হুসাইন (আ.) জিজ্ঞাসা করলেন: “এই জায়গার নাম কী?” বলা হলো: কারবালা। ইমাম বললেন: “হে আল্লাহ, আমি দুঃখ ও বিপদ থেকে তোমার কাছেই আশ্রয় চাই।” তারপর ইমাম বললেন: “এটাই দুঃখ ও বিপদের স্থান, নেমে এসো।” এখানেই নেমে এসো, আল্লাহর কসম, এটাই সেই জায়গা যেখানে আমাদের অবস্থান করতে হবে, যেখানে আমাদের রক্ত ​​ঝরবে এবং যেখানে আমরা শায়িত হব। আল্লাহর কসম, এখানেই আমার আহলে বাইতকে বন্দী করা হবে, আমার নান, আল্লাহর রাসূল (সা.) আমাকে এই বিষয় সম্পর্কে জানিয়েছিলেন।[৭]

নিজেদের রসদগুলি এখানেই খুলুন, এটাই হলো কারবালা

এখানের মাটি আমাদের হৃদয় ও আত্মার কাছে পরিচিত

সালাম তোমার উপর, হে কারবালার ভূমি

সালাম তোমার উপর, আমাদের আশ্রয়স্থান

সালাম তোমার উপর, ভালোবাসা ও সান্ত্বনার উপত্যকা

আহ এখানে ভালোবাসার গন্ধ কী মনোরম

সালাম আমার বোনের সেই তাঁবু প্রতি

সালাম আমার আকবারের শাহাদতের স্থানের প্রতি

হে কারবালা, তুমি আমার শিশু আছগারের দোলনা

হে কারবালা, তুমি আব্বাসের শাহাদতের মহাকাব্য

হে কারবালা, আমি এসেছি তোমার বাহু মেলে ধরো

হে কারবালা, আমি এসেছি তোমার অতিথির শয্যা প্রস্তুত করো

সূত্র:

১- আশুরা: মূল, উদ্দেশ্য, ঘটনা, পরিণতি; পৃ:- ৩৭৯।

২-কুল্লিয়াতে মাফাতিহ নভিন; পৃ:- ৫৯৯।

৩-আহকামে আজাদারী; পৃ:-১১৪।

৪- আশুরা: মূল, উদ্দেশ্য, ঘটনা, পরিণতি; পৃ:- ৩৭৯।

৫-মাকতাল হুসাইন খোরিজমি, খণ্ড-১, পৃ:- ২৩৭ এবং বিহারুল-আনওয়ার, পৃ:- ৩৮৩।

৬-আশুরা: মূল, উদ্দেশ্য, ঘটনা, পরিণতি; পৃ:- ৩৭৯। 

৭- লুহুফ, সাইয়্যেদ ইবনে তাওউস, পৃ:-১৩৩।

হামিদরেযা রেযায়ী ওর্গানী

পবিত্র কোম নগরী

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha