২০ জুন ২০২৬ - ০৭:৩৮
পশ্চিমা গণমাধ্যমে ইরান-আমেরিকা সমঝোতা স্মারকের ব্যাপক প্রতিফলন

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের খবর মার্কিন ও ইউরোপীয় গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): এসব প্রতিবেদনে যুদ্ধ ও সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালীর পুনরায় উন্মুক্তকরণ, কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহার, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এই সমঝোতার অর্থনৈতিক প্রভাবের মতো বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।



মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের মুদ্রিত সংস্করণে স্বাক্ষর করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং চুক্তির অন্যান্য ধারার বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে এই স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সিএনএন আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদ-এ চুক্তির একটি কপিতে স্বাক্ষর করেন। পরে স্বাক্ষরিত নথির ছবি তেহরানে পাঠানো হলে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তাতেও স্বাক্ষর করেন। সিএনএনের মতে, চুক্তিতে স্বাক্ষর করার সময় ট্রাম্প বলেন, “এটি সহজ কাজ ছিল না।”

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এই সমঝোতাকে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফf-এর উদ্ধৃতি দিয়ে এপি জানায়, দুই দেশের নেতারা স্বাক্ষর করার পরই সমঝোতা স্মারক কার্যকর হবে।

সংবাদমাধ্যমটি আরও উল্লেখ করেছে, এই চুক্তিতে স্থায়ীভাবে বৈরিতার অবসান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতার লক্ষ্যে ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট অ্যাক্সিওস “যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নির্ধারিত সময়ের আগেই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়টি এখন কার্যকর হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে তারা জানায়, চুক্তিটি মূলত শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল, তবে দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই তা সম্পন্ন করা হয়েছে।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস এই চুক্তির অর্থনৈতিক দিকগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করে লিখেছে যে, ট্রাম্প ইরানের কিছু জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করে দেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পত্রিকাটি আরও জানায়, সমঝোতা অনুযায়ী ইরান দ্রুত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস উল্লেখ করেছে, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। তাই এই সমঝোতা হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে গেছে।

অন্যদিকে দ্য গার্ডিয়ান ১৪ দফার এই সমঝোতাকে এমন একটি চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা ট্রাম্পের ভাষায় সম্ভাব্য “বৈশ্বিক মন্দা” প্রতিরোধ করেছে। পত্রিকাটি জানায়, মার্কিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একে “বড় ধরনের বিজয়” হিসেবে আখ্যায়িত করলেও এতে ইরানের জন্য উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ও আর্থিক সুবিধা রয়েছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্প ইরানের শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার স্বীকার করে জানান যে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করার জন্য তিনি তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করবেন না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের জব্দকৃত সম্পদের কয়েক বিলিয়ন ডলার ফেরত দিতে হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha