২ জুলাই ২০২৬ - ১৯:২৫
বিপ্লবের শহীদ নেতার শেষ বিদায়ে ইরানে ৯০ দেশের ধর্মীয় প্রতিনিধি ও নেতা উপস্থিত থাকবেন

ইরানের শহীদ বিপ্লবী নেতার বিদায়, জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাপক আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): শহীদ বিপ্লবী নেতার বিদায় ও দাফন অনুষ্ঠানের জাতীয় আয়োজক কমিটির মহাসচিব আলি আকবর পুরজামশিদিয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি দেশের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ও নেতারা এবং বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশের আলেম, গবেষক ও বিভিন্ন ধর্মের নেতারা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, এই যথাযথ অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিপ্লবের তৃতীয় নেতার প্রতি মুসলিম উম্মাহ ও জনগণের আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করা। তিনি আরো বলেন, শহীদ নেতাকে শেষ বিদায় জানানোর এই অনুষ্ঠান ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শক্তি, ঐক্য ও জাতীয় সংহতির প্রতীক হয়ে উঠবে এবং দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের চিত্র ফুটে উঠবে।

পুরজামশিদিয়ান ইরাকে শহীদ নেতার অবস্থান সম্পর্কে বলেন, সেখানে তার মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তি ছিল তাঁর ধর্মীয় নেতৃত্ব। এ কারণে ইরাকের জনগণের কাছেও এই অনুষ্ঠান বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

তিনি অনুষ্ঠানের আন্তর্জাতিক দিক তুলে ধরে বলেন, বিভিন্ন স্তরের বিদেশি প্রতিনিধি দল ও অতিথিদের অংশগ্রহণ এ আয়োজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ইতোমধ্যে ৩০টিরও বেশি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিনিধিদল পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা অঞ্চল ও বিশ্বে শহীদ নেতার প্রভাব ও মর্যাদার প্রতিফলন। তিনি আরও জানান, বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশের আলেম, বিজ্ঞানী, ধর্মীয় নেতা ও বিভিন্ন মতাদর্শের ব্যক্তিত্ব এই বিদায়, জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

অনুষ্ঠানের সময়সূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, শনিবার তেহরানের মোসাল্লায় বিদায় অনুষ্ঠান শুরু হবে। দ্বিতীয় দিনে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে এবং এরপর রাত ৮টা পর্যন্ত শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি চলবে।

তিনি জানান, সোমবার ৬ জুলাই শহীদ বিপ্লবী নেতার মরদেহের আনুষ্ঠানিক বিদায় ও জানাজার শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এতে লাখো মানুষের উপস্থিতির সম্ভাবনা থাকায় সব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যাপক সমন্বয় করা হয়েছে। পুরজামশিদিয়ান আরও বলেন, ৭ জুলাই পবিত্র জামকারান মসজিদে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী পবিত্র কোম শহরে মরদেহ বহন ও শ্রদ্ধা নিবেদনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।

তিনি জানান, ৮ জুলাই মরদেহ ইরাকে নেওয়া হবে। নাজাফ অথবা বাগদাদ বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পর পবিত্র কারবালা ও নাজাফ শহরে তাওয়াফ ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে তিনি বলেন, ৯ জুলাই পবিত্র মাশহাদ শহরে চূড়ান্ত জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha