আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): সিবিএস জানায়, গাজায় চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে নাগরিকদের মাঝে দেশত্যাগের প্রবণতা প্রবল হয়েছে। এর ফলে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ইসরায়েলের অভিবাসন ভারসাম্য ঋণাত্মক (Negative Migration Balance) পর্যায়ে পৌঁছেছে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধীরগতি টাইমস অব ইসরায়েল-এর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যা ১.১ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ১ লাখ ৭৮ হাজারে পৌঁছেছে। আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি অপরিবর্তিত থাকলেও, এটি দেশটির ইতিহাসে জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম ধীরতম বছর।
অন্যদিকে, টাউব সেন্টার ফর সোশ্যাল পলিসি স্টাডিজ অনুমান করছে, এই হার অদূর ভবিষ্যতে ০.৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা হবে ইসরায়েলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১ শতাংশের নিচে প্রবৃদ্ধি।
অভিবাসন হ্রাসের কারণ সিবিএস জানিয়েছে, ২০২৫ সালে মাত্র ২৪ হাজার ৬০০ নতুন অভিবাসী ইসরায়েলে এসেছেন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৮ হাজার কম। মূলত রাশিয়া থেকে আসা অভিবাসীর সংখ্যা কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা, গাজায় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এবং বর্তমান সরকারের বিচারব্যবস্থা সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে সৃষ্ট অস্থিরতা নাগরিকদের মাঝে হতাশা তৈরি করেছে। তাঁদের মতে, এসব ঘটনা ইসরায়েলের গণতন্ত্র ও নিরাপত্তাকে দুর্বল করছে।
দেশত্যাগ বনাম প্রত্যাবর্তন ২০২৪ সালে ৮২ হাজার ৭০০ ইসরায়েলি দেশ ছেড়েছিলেন, যা ছিল দেশটিতে আগত মানুষের সংখ্যার চেয়ে প্রায় ৫০ হাজার বেশি। যদিও ২০২৫ সালে ১৯ হাজার ইসরায়েলি দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরেছেন, তবুও দেশত্যাগকারীদের তুলনায় সেই সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য।
ইতিহাসবিদদের মতে, ১৯৫০ ও ১৯৮০–এর দশকের কিছু সময় বাদে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে অধিকাংশ সময় দেশত্যাগের চেয়ে আগত ইহুদির সংখ্যা বেশি ছিল, যা এখন বিপরীতমুখী।
বর্তমান জনসংখ্যা কাঠামো ইসরায়েলের মোট ১ কোটি ১ লাখ ৭৮ হাজার জনসংখ্যার মধ্যে:
ইহুদি ও অন্যান্য: ৭৭ লাখ ৭১ হাজার (৭৬.৩%)
আরব জনগোষ্ঠী: ২১ লাখ ৪৭ হাজার (২১.১%)
বিদেশি নাগরিক: প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার (২.৬%)
Your Comment