২০ মার্চ ২০২৬ - ২৩:৪৬
ঈদুল ফিতর; ইসলামী ঐক্য ও সহমর্মিতার ঈদ

শাওয়ালের চাঁদ বয়ে আনে ঈদের বার্তা/বিশ্বের সমস্ত মুসলিমদের প্রতি রইল ঈদের শুভেচ্ছা।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): হাদিসে এসেছে, মানুষের জন্য সেই দিনটিই হচ্ছে প্রকৃত ঈদ যেদিন সে কোনো পাপ বা গোনাহে লিপ্ত হয় না। অর্থাত নিজেকে পাপ থেকে রক্ষা করতে পারাটাই হচ্ছে মু'মিনের জন্য প্রকৃত সাফল্য।



একটি বর্ণনায় আমিরুল মু'মিনীন হযরত আলী (আ.) ঈদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রজ্ঞা হিসেবে আল্লাহর অবাধ্যতা পরিহার করার কথা উল্লেখ করে বলেছেন:

کُلُّ یَومٍ لا یُعصَی اللهُ فیهِ فَهُوَ یَومُ عیدٍ

"যে দিনে কোনো পাপ করা হয় না, সেই দিনটিই ঈদের দিন; (নাহজুল-বালাগাহ, হিকমত ৪৩৭)

ঈদের বিষয়ে এটিই একই ঈশ্বরবাদী দৃষ্টিভঙ্গি। সুতরাং, মুসলিম উৎসবগুলোতে যা সুস্পষ্ট তা হলো আল্লাহর স্মরণে মনোযোগ দেওয়া, আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা, আল্লাহর অবাধ্যতা পরিহার করা এবং তওবা করে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

পবিত্র রমজান মাসে মুসলমানরা যে খোদাভীতি ও উন্নত স্বভাব-চরিত্র অর্জন করতে সক্ষম হয় তা সারা বছর এবং সারা জীবন ধরে রাখা খুবই জরুরি।

মুসলমানরা যদি পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের প্রকৃত শিক্ষাগুলোর আলোকে নিজেকে, ইসলামী সমাজকে এবং মুসলমানদের ও গোটা মানবজাতির অবস্থাকে উন্নত করতে সক্ষম হয় তাহলেই ঈদগুলো হবে সার্থক।

শাওয়ালের চাঁদ বয়ে আনে ঈদের বার্তা। ঈদের দিনে এক মাসের সংযম অনুশীলনের প্রশিক্ষণ-কোর্সে উত্তীর্ণ মুসলমানরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে প্রশংসাসূচক ও কৃতজ্ঞতা-জ্ঞাপক নানা বাক্য উচ্চারণ করে ছুটে যান প্রেমময় ঈদের জামাতে।

রোজার মাসে মু'মিন মুসলমান ভালভাবেই উপলব্ধি করতে পারেন দরিদ্রদের ক্ষুধা-তৃষ্ণার যাতনা। তাই ইসলামী ঐতিহ্য বা প্রথা অনুযায়ী ঈদের জামাতে যাওয়ার আগেই তারা পরিশোধ করেন ফিতরা নামক জাকাত যা দরিদ্র, ছিন্নমূল, ইয়াতিম ও নিঃস্ব ব্যক্তিদের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়। ঈদের জামাতের আগেই ফিতরা পরিশোধ করা উত্তম।

পবিত্র বা নতুন জামা-কাপড় পরে ঈদের জামাতে যাওয়ার পথে বা ঈদুল ফিতরের সমাবেশে উপস্থিত হয়ে মুসলমানরা উচ্চস্বরে বলেন, "আল্লাহ সবচেয়ে বড় বা মহান এবং এত মহান যে তা বর্ণনা করা সম্ভব নয়,এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো মা'বুদ বা উপাস্য নেই, আল্লাহ সবচয়ে বড়, সব প্রশংসা একমাত্র আল্লাহরই জন্য, আমাদের সুপথ দেখানোর জন্য তোমার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি হে আল্লাহ! এবং আমাদের যা দান করেছেন সে জন্য তোমায় ধন্যবাদ।"
 
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা-জ্ঞাপক বা প্রশংসাসূচক এই জাতীয় বাক্যগুলো উচ্চারণের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি নিজেও তা করতেন। এমনকি খুতবা দেয়ার আগে ও পরে মহানবী (সা.) এইসব বাক্য উচ্চারণ করতেন।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha