২৯ মার্চ ২০২৬ - ১৭:২৯
ইরান ইস্যুতে সংকটে ট্রাম্প

ইরান ইস্যুতে আবারও নীতিগত দোলাচলে পড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): সামরিক হুমকি স্থগিত করলেও, এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসা ট্রাম্পের জন্য সহজ নাও হতে পারে, এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা।



বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরু করা সহজ হলেও তা থামানো কঠিন। বিশেষ করে, এই সংঘাত এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সামান্য উত্তেজনাও বড় আকার নিতে পারে।

হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি দিয়ে ইরান ইতোমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রও কঠোর সামরিক অবস্থান নিয়েছে।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান কিছুটা ‘ডি-এসকেলেশন’ বা উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত দেয়। তবে তার বক্তব্যে ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

একদিকে সে শান্তির কথা বলছেন, অন্যদিকে হামলার প্রস্তুতি বজায় রেখেছে। এ কারণে তার ঘোষণাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প সময় কিনতে চাইছে। কারণ, সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় মার্কিন বাহিনী এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। খার্গ আইল্যান্ড বা হরমুজ প্রণালীর গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখলের মতো অভিযান চালাতে আরও সময় লাগতে পারে।

তবে ইরানের অবস্থানও কঠোর। দীর্ঘ হামলার পর দেশটি আরও আপসহীন হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে, তাদের শীর্ষ নেতৃত্বে ক্ষয়ক্ষতির পর কঠোরপন্থীদের প্রভাব বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। এতে সম্ভাব্য আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শর্তগুলোও বড় বাধা। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ত্যাগের দাবি তেহরানের জন্য গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। কারণ, সাম্প্রতিক হামলা তাদের এমন প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালোভাবে দেখিয়েছে।

এদিকে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ট্রাম্পের সামনে বিকল্পগুলোও সীমিত হয়ে পড়ছে। হামলা বাড়ালে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হতে পারে। স্থলবাহিনী মোতায়েন করলে তা রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হবে। আবার হঠাৎ করে যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়ালে মিত্র দেশগুলো নিরাপত্তাহীনতায় পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প এমন এক সংকটে পড়েছে, যেখানে সহজ কোনো সমাধান নেই। যুদ্ধ চালানো বা থামানো দুটোই এখন তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha