৬ এপ্রিল ২০২৬ - ১৩:৪৩
ইমেজ বাঁচাতে হামলার খবর গোপন রাখতে চায় আরব আমিরাত

সংযুক্ত আরব আমিরাতে আমেরিকান ঘাটিতে ইরান ব্যাপক আকারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা):  সম্প্রতি একটি ইরানি ড্রোন দুবাই বন্দরে একটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেয়। জাহাজটির নাম আল সালমি। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো— জ্বলন্ত জাহাজের কোনো ভিডিও বা ছবি প্রায় কেউই দেখতে পায়নি। শুধু একটি দূর থেকে তোলা ছবি সামনে এসেছিল, যেখানে ধোঁয়া উঠছিল পানির উপর দিয়ে।



অথচ যে কোনো হামলার ছবি স্মার্টফোনে তুলে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। ইরান, ইসরায়েল, লেবাননেও তা হয়েছে। কিন্তু দুবাইয়ে হয়নি। এর কারণ কী? কারণটা সহজ।

সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার ইরান যুদ্ধের খবর নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠে নেমেছে। যে কেউ হামলার ছবি বা ভিডিও শেয়ার করলেই তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে।

গত ১২ মার্চ দুবাইয়ের ক্রিক হারবার এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ইরানি ড্রোন আঘাত করে। সেই ভবনের তিনজন বাসিন্দা শুধু পরিবারকে জানাতে নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের ছবি ব্যক্তিগত বার্তায় পাঠিয়েছিলেন। তাদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে একটি প্রাইভেট গ্রুপ চ্যাটে হামলার খবর শেয়ার করায় ২১ জনকে আটক করা হয়।

আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি বলেছে, হামলার ছবি শেয়ার করলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে পারে এবং ‘দেশের আসল পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল ধারণা’ তৈরি হতে পারে। কিন্তু অনেক দেশি-বিদেশি সাংবাদিকও এই নিয়মের কারণে দিনের পর দিন আটক থেকেছেন বলে জানা গেছে।

কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস-এর মধ্যপ্রাচ্য বিভাগের পরিচালক সারা কুদাহ বলে, আমিরাতে কাজ করা সাংবাদিকরা গোপনে তাকে জানিয়েছে যে, তারা কী ঘটছে সে বিষয়ে কিছু প্রকাশ করতে বা কোনো মিডিয়ায় কথা বলতে পারছেন না— কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

অনেক বিদেশি নাগরিক দুবাই ছেড়ে চলে গেছেন। স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে চলছে। দুবাই বিমানবন্দর এখনো মাত্র ৬০% ক্ষমতায় চলছে।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha