১০ মে ২০২৬ - ২০:০৯
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিণতির চোরাবালি থেকে বেরিয়ে আসতে ট্রাম্প হিমশিম খাচ্ছে।

আমেরিকান বিশ্লেষকদের সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি নতুন প্রতিবেদনে জোর দেওয়া হয়েছে যে, জ্বালানির মূল্যের তীব্র বৃদ্ধি, বিশ্ববাজারের সংকট, সৌদি আরব ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার বিরোধ এবং আমেরিকান জনমতের ব্যাপক বিরোধিতা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি করেছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবাজ ও সন্ত্রাসী সরকার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ করার জন্য তীব্র অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে।



ওয়াশিংটনের প্রাথমিক হিসাবের বিপরীতে, এই যুদ্ধটি এখন খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই একটি সংকটে পরিণত হয়েছে। জ্বালানির মূল্যের তীব্র বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ, আরব মিত্রদের সাথে মতবিরোধ এবং চীন এই সংকটকে কাজে লাগাচ্ছে এমন উদ্বেগ হোয়াইট হাউসকে একটি কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে।

স্টিমসন সেন্টারের ‘রিথিংকিং আমেরিকান গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি’ প্রোগ্রামের বিশ্লেষক ইভান কুপার আনাদোলু এজেন্সিকে বলে, “ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে স্পষ্টতই আগ্রহী, কিন্তু তিনি উল্লেখযোগ্য বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।

আরও বলে, দেশে ট্রাম্পের ওপর চাপ রয়েছে যাতে তাকে “দুর্বল” হিসেবে দেখা না যায় এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বা হরমুজ প্রণালীতে তেহরানের ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের কোনো ছাড় না দেয়। কুপার এও জোর দিয়ে বলে যে, “উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো ও ইসরায়েলের পরস্পরবিরোধী দাবিগুলোর মধ্যে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর পথে উল্লেখযোগ্য বাধা রয়েছে।”

একই প্রতিবেদনে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক জ্যাক ক্লেটন এই সংকট শুরু করার জন্য সরাসরি ট্রাম্পকে দায়ী করে বলেছে: “ট্রাম্পের গোঁড়ামিই যুদ্ধ শুরু করতে সাহায্য করেছে এবং দুই পক্ষ সমঝোতায় না পৌঁছালে তা যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার কারণ হতে পারে।”

সতর্ক করে বলে যে, ট্রাম্প এখন এক রাজনৈতিক উভয়সংকটে পড়েছেন, কারণ তিনি এমন কোনো চুক্তি মেনে নিতে পারছে না যা বারাক ওবামার ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দুর্বল বলে মনে হবে; যে চুক্তিটিকে সে বছরের পর বছর ধরে তার প্রচারণামূলক আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha