৪ জুন ২০২৬ - ১৫:০৯
গাদীরে খুমকে আমাদের হৃদয়ে লালন করতে হবে/কারবালা সংঘটিত হয়েছিল গাদীরে খুমের বাস্তবতাকে মাটি চাপা দেয়ার জন্য।

১৮ ই জ্বিলহজ এই দিনটিকে ভক্তি সহকার মনে রাখতে হবে, তা না হলে আমাদের ঐতিহাসিক গাদিরের ঘটনা চিরতরে হারিয়ে যাবে ইসলাম থেকে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): চিশতি আল-নিজামি গাদিরে খুমের গুরুত্ব সম্পর্কে সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন: গাদিরে খুমের ঘটনা ভুলে যাওয়ার কারণে বা নবীজির আদেশ অমান্য করার কারণই হচ্ছে কারবালা ও আশুরা।

তিনি লিখেছেন: কারবালায় নিসংশ বলি হয়েছিল রাসুল পাকের দৌহিত্র ইমাম হোসাইন ও এই পরিবারবর্গের সকলেই। সেই দিনটি ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। সেই দিনটিকে আজও বিশ্ববাসী,শোকে কাতর ভারা ক্লান্ত হয়ে,সমগ্র মুসলিম বিশ্ব পালন করে। আজও সেই দিনটির গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মুসলিম জাতির জন্য। অথচ আমরা কি জানি সেই কারবালা কেন সংঘটিত হয়েছিল?

 কারবালার হৃদয় বিদারক ঘটনার মূল কারণটি ছিল ঐতিহাসিক এক ভাষণের। যে ভাষণের মাধ্যমে, হযরত মুহাম্মদ(সা.)-এর নেতৃত্বে,মানবজাতি পেয়েছিল ইসলামের এক নবো-ধারাবাহিকতা।

যে ইসলামে মুসলিম জাতির জন্য পরবর্তী নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল হযরত আলী (আ.)।

সেই দিন সকলেই হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর সাথে এক বাক্যে স্বীকার করে নিয়েছিল হযরত আলীর নেতৃত্বকে। তাহলে কারবালার মতো বিষাদগার কেন সৃষ্টি হয়েছিল পরবর্তীতে? এখানেই মূল চক্রান্ত ও তার ইতিহাস।

হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর গাদিরখুমে রেখে যাওয়া ভাষণের পর উনি সকলকেই নিয়ে মদিনায় চলে যান। মদিনায় অবস্থানকালে উনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ইতিমধ্যেই উনি বুঝতে পারেন মদিনায় বহু দলে বিভক্ত হয়ে গেছে। উনি তখনও বিছানায় শায়িত, অসুস্থ অবস্থায় বেশ কিছুদিন ছিলেন।

নবীজি লক্ষ্য করলেন অনেকেই আলীর নেতৃত্বকে মেনে নিতে চাচ্ছেন না, পরবর্তী নেতা হিসেবে আলীকে মেনে নেওয়া তারা যেন পছন্দই করছেন না। মুসলিমদের প্রথম সারির কতিপয় কয়েকজন নেতা তাদের পেছনে যোগ সাজোস করেছেন, যাদের পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত ভয়ানক পূর্বেই।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এই বিষয়টা বুঝতে পেরে, বিছানায় শুয়েই উনি হুকুম করেছিলেন একটি বর্তন ও কলম নিয়ে এসো, অর্থাৎ উনি চেয়েছিলেন আলীকে দেয়া এই দায়িত্ব চিরকুটে লিপিবদ্ধ করে যেতে।

 যখন কলম কাগজের কথা হুকুম করা হলো, তখন কতিপয় প্রথম সারির সাহাবীদের মধ্যে একজন বলেছিলেন, না---রাসূল (সা.) এখন অসুস্থ ----অসুস্থ অবস্থায় এখন ওনাকে দিয়ে এই ধরনের কাজ থেকে বিরত রাখতে হবে। উনি এখনো জ্বরের ঘোরে ভুল বলছেন, আগে ওনার সুস্থতা প্রয়োজন।

রাসুল পাকের ইন্তেকালের পর, চক্রান্ত শুরু, হযরত আলীকে কোনঠাসা করা হলো, একাকীত্ব করে দেওয়া হলো তাদের পরিবারকে। ইসলামের ক্ষমতাকে তারা রাজশক্তিতে কায়েম করলো। অগ্রাহ্য হয়ে গেল গাদির খুমে,রাসুল পাককে দেয়া সোয়া লক্ষ সাহাবীর ওয়াদা। সেইদিনই ইসলামের পতাকা অর্ধ নর্মিত হয়ে গেল।

এই ইতিহাস সকলেরই জানা, তাই এই বিষয়ে আমি আর সামনে এগোবো না। এই কথাগুলো বলার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমরা গাদীর কে ভুলে গেছি।

গাদীরে খুমের বাস্তবতা আমাদের হৃদয়ে আজ মৃত---আজকে আমরা যে কারবালাকে নিয়ে এত শোক, মাতম, আহাজারি করছি পনেরশো বছর পরেও,তার মূল ইতিহাস আমাদের অনেকেরই অজানা।

সেই কারবালা কিন্তু সংঘটিত হয়েছিল গাদীরখুমের বাস্তবতাকে,মাটি চাপা দেয়ার জন্য, আর হয়েছিলও তাই। আমরা আজ কারবালাকে স্মরণ করছি, হযরত ইমাম হোসাইন এর আত্মত্যাগের মহান মহিমায় মহিমান্বিত হয়ে। ইমাম হোসাইন আমাদের জন্য রেখে গেছেন মূল আদর্শ বেলায়েতের।

কিন্তু যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে কারবালা ঘটেছিল, আজ সমগ্র বিশ্ব সেই দিনটিকে ভুলতে বসেছে।

গাদীরে খুমকে আমাদের হৃদয়ে লালন করতে হবে। ১৮ ই জ্বিলহজ এই দিনটিকে ভক্তি সহকার মনে রাখতে হবে, তা না হলে আমাদের ঐতিহাসিক গাদিরের ঘটনা চিরতরে হারিয়ে যাবে ইসলাম থেকে।

পলাশ চিশতি আল-নিজামি

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha