৫ জুন ২০২৬ - ০০:৩৬
'ইসলামী বিপ্লব সব আধিপত্যবাদী শক্তিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে'

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইসলামী বিপ্লবের মহান স্থপতি ইমাম খোমেইনী (রহ.)-এর ইন্তেকালের বার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ইরানের জনগণের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও অগ্রগতির পেছনে ইমাম খোমেইনি (রহ.)-এর নেতৃত্ব ও চিন্তাধারার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা):  ইসলামাবাদে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের উদ্যোগে ইমাম খোমেইনী (রহ.)-এর ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী এবং মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহত শহীদদের স্মরণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।



অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। তারা ইমাম খোমেইনি (রহ.)-এর ব্যক্তিত্ব, ইসলামী বিপ্লবের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব, ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষা এবং বৈশ্বিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তার সংগ্রামের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, ইরানের জনগণের বিপ্লবী চেতনা এবং ইমাম খোমেইনী  (রহ.)-এর নেতৃত্বে স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার আন্দোলনের প্রতি তাদের আনুগত্যই দেশটির সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি। তারা আরও বলেন, ইমাম খোমেইনী  (রহ.) এবং ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতারা প্রমাণ করেছেন যে ইসলাম জাতিগুলোকে সম্মান, উন্নয়ন, অগ্রগতি ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করতে সক্ষম।

পাকিস্তানি বিশিষ্টজনদের মতে, ইমাম খোমেইনী (রহ.) শুধু একটি ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব নন, বরং তিনি একটি চিরন্তন আদর্শ। তারা বলেন, ইসলামী বিপ্লব বিশ্বব্যাপী আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর জন্য এমন একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যার প্রভাব আজও বিদ্যমান। ফলে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য সংগ্রামরত জাতিগুলোর মনোবল ভেঙে দিতে বৈশ্বিক শক্তিগুলো সফল হয়নি।

পাকিস্তান শিয়া উলামা কাউন্সিলের প্রধান সাইয়্যেদ সাজিদ আলী নাকভি বলেন, “আজ ইমাম খোমেইনী (রহ.)-এর চিন্তা ও আদর্শ পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে জীবন্ত, যারা মর্যাদাপূর্ণ ও শোষণমুক্ত জীবনের স্বপ্ন দেখে।”

অন্যদিকে, লিয়াকত বালুচ বলেন, “ইমাম খোমেইনী  (রহ.) কোনো একটি দেশ বা জাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নন। তার চিন্তাধারা বিশ্বের সব স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তাই তার আদর্শ ও দর্শন নতুন করে অধ্যয়ন করা আজও জরুরি।”

ইসলামাবাদে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত আসিফ বলেন, “ইমাম খোমেইনী (রহ.) তার দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে একটি ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ জাতির ইচ্ছাশক্তি যেকোনো অত্যাচারী ব্যবস্থার চেয়ে শক্তিশালী।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পাকিস্তানের শিয়া নেতা সাইয়্যেদ সাজিদ আলী নাকাভি। তিনি বলেন, ইমাম  খোমেইনী (রহ.) বিশ্বকে দেখিয়েছেন যে ধর্ম ও রাজনীতি পরস্পর বিচ্ছিন্ন নয়। তার মতে, ইমামের চিরন্তন বার্তা হলো ঐক্য, সংহতি এবং বিভেদ পরিহার। এমন এক সময়ে যখন ধর্মকে রাজনীতি থেকে আলাদা করার তত্ত্ব প্রচার করা হচ্ছিল, তখন ইমাম খোমেইনী (রহ.) প্রমাণ করেন যে ইসলাম সমাজ পরিচালনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা রাখে।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha