১৯ জুন ২০২৬ - ০৮:৫৫
ইরানের নৌপথ থেকে অবরোধ তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সব বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় বাণিজ্যিক ও অন্যান্য নৌযান চলাচলের ওপর আরোপিত দীর্ঘদিনের কঠোর অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় সেন্টকম জানায়, আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানের অভ্যন্তরীণ বন্দরগুলোতে যেকোনো জাহাজের প্রবেশ কিংবা সেখান থেকে আন্তর্জাতিক রুটে বের হওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনী আর কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করবে না।

তবে নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও মধ্যপ্রাচ্যের এই কৌশলগত জলসীমায় মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি এখনই কমছে না বলে স্পষ্ট করেছে সেন্টকম।

তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেহরানের সঙ্গে হওয়া দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার ‘সব শর্ত’ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ওই এলাকায় নিয়মিত টহল অব্যাহত রাখবে।

চলতি বছরের সাম্প্রতিক তীব্র সামরিক উত্তেজনার পর ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং ওই অঞ্চলে নিরাপদ নৌ চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। অবশ্য এই বিশেষ সমঝোতার বিস্তারিত সব শর্তাবলি সম্পর্কে সেন্টকমের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে খোলাসা করে কিছু জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ডিজিটাল মাধ্যমে একটি আকস্মিক চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তিটি স্বাক্ষরের পর থেকেই এটি কার্যকর করা হয়। এই সমঝোতার প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—চলমান যুদ্ধাবস্থার অবসান, লেবানন সংকটের সুরাহা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই সাময়িক সমঝোতাকে একটি স্থায়ী রূপ দিতে এবং চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে উভয় পক্ষ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে। ওই দীর্ঘমেয়াদি সংলাপে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বহাল থাকা অন্যান্য অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো জটিল বিষয়গুলো স্থান পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha