আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): বাংলাদেশে ঢাকায় অবস্থিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাসে ইমাম আবা আবদিল্লাহ আল-হুসাইন (আ.)-এর স্মরণে এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শোকানুষ্ঠানে ইরানের রাষ্ট্রদূত, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় আলেম, প্রবাসী ইরানি নাগরিক এবং আহলুল বাইত (আ.)-এর অনুসারীরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি হোজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন সাইয়্যেদ মেহেদি আলিজাদেহ মুসাভি মহররম উপলক্ষে শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তিনি এই আয়োজনের জন্য বাংলাদেশে অবস্থিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং উল্লেখ করেন যে, আশুরা ইসলামি ইতিহাসের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত—এমন এক রাত যখন ইমাম হোসাইন (আ.)-এর প্রতিষ্ঠিত মানব-উন্নয়ন ও নৈতিক শিক্ষার আদর্শ সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিল এবং বিশ্বজুড়ে সকল মুক্তমনা মানুষের জন্য রেখে গিয়েছিল চিরস্থায়ী শিক্ষা।

ভারত ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে হুসাইনি আচার-অনুষ্ঠানে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রতি ইঙ্গিত করে এই ধর্মীয় বক্তা জোর দিয়ে বলেন: "ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রতি ভালোবাসা হলো সেই আলো, যাকে মহানবী (সা.) মুমিনদের হৃদয়ে এক চিরস্থায়ী অনুরাগ হিসেবে অভিহিত করেছেন—এমন এক ভালোবাসা যা কখনোই নিভে যাবে না।"

হোজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন আলিজাদেহ মুসাভি বলেছেন, "আশুরার প্রকৃত সুফল হলো একজন মানুষের প্রকৃত অর্থে 'হোসাইনি' হয়ে ওঠা।" তিনি আরও বলেন, "আশুরার রাতের পরেও যদি আমাদের নৈতিকতা, বিশ্বাস, আচরণ এবং ঈশ্বরের সাথে সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, তবে আমরা এই আন্দোলনের মূল বার্তা থেকে বিচ্যুত হয়েছি। আশুরা হলো এমন এক শিক্ষালয় যা মুক্তমনা ও দায়িত্বশীল বিশ্বাসী গড়ে তোলে।"
Your Comment