আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা):পবিত্র কুরআন, মাফাতিহুল-জিনান, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পতাকা।
প্রথম পর্ব: "গৃহে কুরআন"
অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রত্যেক মুসলমানের ঘরে কুরআনের এক বা একাধিক খণ্ড থেকেছে, কারণ মুসলমানরা কুরআনকে ভালোবাসে এবং ঘরে পবিত্র কুরআনের একটি কপি না থাকাকে খারাপ বলে মনে করে। এই বিষয়টি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, নারীদের দেনমোহর হিসেবে পবিত্র কুরআনের একটি খণ্ড নির্ধারন করাটাও একটি প্রথায় পরিণত হয়েছে এবং এই উত্তম প্রথাটি আজও প্রচলিত আছে।
মুসলমানদের ঘরে কুরআন থাকে কারণ:
১_ জ্ঞান ও বরকতের জন্য;
২_ প্রতিদিন সকালে ও রাতে তেলাওয়াতের জন্য;
৩_ মন্দ ও বিপদ থেকে সুরক্ষার জন্য;
৪_ মুসাফিরদের বিদায় জানানোর জন্য;
৫_ কুরআন তেলাওয়াতের জন্য
দ্বিতীয় পর্ব: গৃহে দোয়ার কিতাব:
পরবর্তীতে, আহলে বাইত (আ.) থেকে প্রাপ্ত দোয়ার প্রচার ও প্রসারের সাথে এবং দোয়া কিতাব রচনার ফলে আরেকটি সুন্দর প্রথার উদ্ভব ঘটে, আর তা হলো পবিত্র কুরআনের পাশে একটি দোয়ার কিতাব রাখা। আর সেই কিতাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘মাফাতিহুল-জিনান’, যা সংকলন করেছেন মহান হাদিস বিশারদ হজ্জ শেখ আব্বাস কোমি (রহ.)। আর আজ আমরা সবাই দেখি যে, এমন ঘর খুঁজে পাওয়া বিরল যেখানে ‘মাফাতিহুল-জিনান’-এর অন্তত একটি খণ্ড নেই।
তৃতীয় পর্ব: ঘরে ঘরে ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতাকা:
ইরানের ইতিহাসে, ইসলামের আগে ও পরে, এমনকি ইসলামী বিপ্লবের গৌরবময় যুগেও, দেশের পতাকা থাকাটা জনগণের কাছে এতটা গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান আর কখনও ছিল না। অতীতে আমরা দেশের পতাকা কেবল স্কুল, সেনানিবাস এবং সরকারি ও প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলিতেই দেখা যেত, কিন্তু আজ, যখন ইরানের যুদ্ধ মহা শয়তান, অপরাধী আমেরিকান এবং শিশুহত্যাকারী ইসরায়েলি শাসনের বিরুদ্ধে, তখন ইরানের পতাকা জ্ঞানী, সাহসী, সচেতন, বিপ্লবী, সম্মানিত এবং উদ্যমী মানুষদের হাতে হাতে দেখতে পাওয়া যায়।
প্রতিটি পরিবার ইরানের পতাকা সংগ্রহ করে এবং রাস্তা ও পাড়ায় রাতের সমাবেশে অংশগ্রহণ করে। এখন, ৯০ রাত ধরে, ইসলামী ইরানের সাহসী, বীর ও প্রেরিত জনগণ, অন্যান্য দেশের তাদের ধর্মবিশ্বাসী ভাই-বোনদের সাথে নিয়ে, শহীদ ইমাম এবং রমজান যুদ্ধের শহীদদের নামে এবং সর্বোচ্চ নেতা সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনেয়ীর প্রতি সম্মান জানিয়ে, হাতে পতাকা নিয়ে ও পতাকা উড়িয়ে ইসলাম, বিপ্লব এবং তাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে রক্ষা করছেন।
প্রকৃতপক্ষে, আমরা বলতে পারি: এখন প্রতিটি পতাকা শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধের অস্ত্রে পরিণত হয়েছে; ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন, রণক্ষেত্রের যোদ্ধাদের অস্ত্র এবং পতাকা, রাজপথের যোদ্ধাদের অস্ত্র, আর ‘আল্লাহু আকবার’-এর অস্ত্রে রণক্ষেত্র ও রাজপথের পরিখায় যোদ্ধা ও মুজাহিদদের জিহাদ ও সংগ্রাম কতই না দর্শনীয় ও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠেছে।
আমরা বিশ্বাস করি: ‘আল্লাহু আকবার’-এর স্মরণ ও স্লোগানই আল্লাহর সৈনিকদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।
মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের ফ্রন্টের বিজয় সুনিশ্চিত এবং এটাই ঐশ্বরিক সত্যের প্রতিশ্রুতি।
হামিদরেযা রেযায়ী ওর্গানি
পবিত্র কোম নগরী ৮ খোরদাদ ১৪০৫-৩০মে ২০২৬
Your Comment