আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ইসলামি বিপ্লবের শহীদ নেতার বিদায় অনুষ্ঠানে ইরানি জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির ওপর আলোকপাতকারী এক নিবন্ধে জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ক্রিশ্চিয়ান বার্গবাউ লিখেছেন যে, এই বিশাল জনসমাগম ইরানি সমাজের বাস্তবতা এবং গত কয়েক মাস ধরে মূলধারার পশ্চিমা গণমাধ্যমে আয়াতুল্লাহ খামেনেই সম্পর্কে যে ভাবমূর্তি তুলে ধরা হয়েছে—তার মধ্যকার এক প্রকট বৈপরীত্যকে উন্মোচিত করেছে।
আরও উল্লেখ করে যে, জার্মান সংবাদপত্র ‘বিল্ড’ (Bild)—যা অতীতে বহুবার ইরানের বিপ্লবের নেতাকে জনসমর্থনহীন এক ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিল—তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের বিপুল সমাগমের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে। ওই জার্মান সমাজবিজ্ঞানী পশ্চিমা গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনায় বিদ্যমান এই স্ববিরোধিতার বিষয়টি তুলে ধরেন; অথচ অধিকাংশ গণমাধ্যমই এর কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি বিমান হামলায় একজন জাতীয় নেতার হত্যার বিষয়টিও উপেক্ষা করে—যে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এই জার্মান সমাজবিজ্ঞানী উল্লেখ করেছে যে, পশ্চিমা গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার সত্ত্বেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে নানামুখী প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; ইমাম খামেনেইর ভাষণ ও ছবি দেখে অনেক ব্যবহারকারী তাঁর ধীরস্থির ভাব, গাম্ভীর্য এবং আন্তরিক বাচনভঙ্গি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
পরিশেষে, পশ্চিমা রাজনৈতিক অভিজাতদের অবস্থার সমালোচনা করে তিনি লেখে যে, অনেক ইউরোপীয় রাজনীতিবিদ জনগণের কাছে তাঁদের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন; খুব কম মানুষই বিশ্বাস করেন যে, ইমাম খামেনেইয়ের মতো তাঁরাও নিজ দেশের স্বাধীনতা ও স্বার্থ রক্ষায় একইভাবে অবিচল অবস্থান নিতে ইচ্ছুক হবেন।
তিনি তাঁর লেখাটি এই প্রশ্নটি দিয়ে শেষ করে: বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জনমত জরিপ অনুযায়ী, জার্মানির বর্তমান চ্যান্সেলর দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে অজনপ্রিয় চ্যান্সেলর। আসলে কে বিশ্বাস করেন যে তিনি জার্মানির স্বার্থ রক্ষা করছেন এবং দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন? আর যদি কোনো একদিন তাঁর মৃত্যু হয়, তবে শেষকৃত্যানুষ্ঠানে আসলে কতজন মানুষ উপস্থিত হবেন?
Your Comment