আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ব্লুমেনথাল জানিয়েছে, ইরান থেকে তার সাংবাদিকতার কাজের কারণেই তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
আরো বলেছে: “আমার বাস্তবভিত্তিক বা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার শাস্তি হিসেবে, ইরান থেকে ফেরার পর ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে রাজনৈতিক হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সিবিপি কর্মকর্তারা তার লাগেজ তল্লাশি করেন এবং মোবাইল ফোনে প্রবেশাধিকার দাবি করেন। তিনি ফোন আনলক করতে অস্বীকৃতি জানালে কর্মকর্তারা সেগুলো জব্দ করে।
ফোন জব্দ করার উদ্দেশ্য ছিল ইরান-সংক্রান্ত তার প্রতিবেদন প্রকাশে নিরুৎসাহিত করা। এছাড়া কর্মকর্তারা বারবার তার ভবিষ্যৎ ভ্রমণ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চায়।
ব্লুমেনথাল বলে:, “আমার ডিভাইসগুলো জব্দ করা ছিল স্পষ্টতই ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি পদক্ষেপ, যাতে আমি এবং অন্যরা ইরান থেকে সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকি। সম্ভবত এ কারণেই সিবিপি কর্মকর্তারা বারবার জানতে চাইছিলেন, আমি শিগগিরই আবার তেহরানে প্রতিবেদনের জন্য ফিরব কি না।”
ব্লুমেনথাল জানায়, সাম্প্রতিক ইরান সফরে তিনি আঞ্চলিক সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রতি জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক হামলা এবং ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন করেছেন।
তার দাবি, বিমানবন্দরে জিজ্ঞাসাবাদ সরাসরি তার সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল এবং যারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাজ করেছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদকারী ব্যক্তিরা একটি “ইসরায়েল-প্রভাবিত অপরাধী চক্রের” অংশ, যারা “তেহরান থেকে আমার প্রতিবেদনে স্পষ্টতই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল।”
দ্য গ্রেজোন (The Grayzone)-এর সম্পাদক ম্যাক্স ব্লুমেনথাল শহীদ নেতার প্রতি বিদায়ি শোক-জ্ঞাপন ও তাঁর দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরান সফরকারী বিদেশি সাংবাদিকদের অন্যতম ছিল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি—ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ৪০ দিনের যুদ্ধের প্রথম দিনে—আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীকে তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ হত্যা করে।
Your Comment