আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): জর্ডানের ১৩০ জনেরও বেশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, লেখক, শ্রমিক সংগঠনের নেতা, সমাজকর্মী এবং গোত্রপ্রধান এক যৌথ বিবৃতিতে দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা ও সামরিক চুক্তিটি বাতিল করে এবং পর্যালোচনা, সংশোধন বা বাতিলের জন্য তা পার্লামেন্টে পেশ করে।
আল-মায়াদিনের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা জোর দিয়ে বলেছেন যে জর্ডানের ভূখণ্ডে বিদেশি বাহিনীর উপস্থিতি দেশটির জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য চ্যালেঞ্জস্বরূপ এবং এর ফলে নানাবিধ নিরাপত্তা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে—এমন সব ঝুঁকি যা তাদের মতে জর্ডানের জনগণের জন্য কোনো প্রত্যক্ষ সুফল বয়ে আনেনি।
বিবৃতিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, বিদেশি বাহিনীর অব্যাহত উপস্থিতি এবং জর্ডানের অবকাঠামো ব্যবহারের ফলে দেশটির আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে; অথচ এই অঞ্চলে চলমান কোনো যুদ্ধেরই পক্ষ নয় জর্ডান, এবং দেশটির সর্বোচ্চ স্বার্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন নীতির মাশুল এর নাগরিকদের দিতে হওয়া উচিত নয়।
জর্ডানে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে স্বাক্ষরকারীরা দেশটির কর্তৃপক্ষের প্রতি "প্রকৃত নিরপেক্ষতা"র নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন—এমন এক নীতি যা যুদ্ধরত কোনো পক্ষের সুবিধার্থে পরিচালিত সামরিক কার্যক্রম বা লজিস্টিক সহায়তা প্রদানে অংশগ্রহণ না করার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
এমন এক সময়ে এই বিবৃতিটি দেওয়া হচ্ছে, যখন গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক ঘটনাবলিতে দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহারের বিষয়টি রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জর্ডানের জনগণ ও সেনাবাহিনীর উদ্দেশে বেশ কয়েকটি পৃথক বিবৃতিও জারি করেছিল; এতে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতির বিরোধিতা করার এবং দেশটির ভূখণ্ড যেন এই অঞ্চলের জাতিগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে আহ্বান জানানো হয়েছিল।
Your Comment