আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ২০১৪ সালের কুদস দিবসের শহীদদের স্মরণে শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে একটি স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নাইজেরিয়ার ইসলামি আন্দোলনের নেতা শেখ ইব্রাহিম জাকজাকি ভাষণ প্রদান করেন।
ভাষণের শুরুতে শেখ জাকজাকি ইমাম আল-হোসাইন (আ.)-এর শোকের সময়কাল, ইমাম হাসান আল-মুজতবা (আ.)-এর শাহাদাত বার্ষিকী, ‘সাইয়্যেদুশ শুহাদা’ বা শহীদদের সরদারের আরবাঈন এবং শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী (রহ.)-এর জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সেই মহান ব্যক্তিদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

নাইজেরিয়ার ইসলামি আন্দোলনের নেতা দেশটিতে ‘আন্তর্জাতিক কুদস দিবস’-এর র্যালি বা মিছিলের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, রমজানের শেষ শুক্রবারে জারিয়া শহরে এই উদ্যোগটি শুরু হয়েছিল; সময়ের সাথে সাথে এটি ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করে, নাইজেরিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং ফিলিস্তিনিদের দাবির প্রতি দেশটির সংহতির প্রতীকে পরিণত হয়।

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বিশ্ব কুদস দিবসের র্যালি ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি এবং তাদের ওপর দীর্ঘদিনের দমন-পীড়ন ও দখদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক; এর মূল বার্তা হলো অবিচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া এবং নির্যাতিতদের পক্ষে দাঁড়ানো। ২০১৪ সালে কুদস দিবসের র্যালিতে হামলার কথা স্মরণ করে শেখ জাকজাকি বলেন: "সে বছর কেবল নাইজেরিয়াতেই র্যালিটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল এবং ঘটনাটি জনদৃষ্টির আড়ালে থাকেনি।

নাইজেরিয়ার ইসলামি আন্দোলনের নেতা আরও বলেন: হুমকি ও হত্যাকাণ্ড কখনোই এই পথ থেকে পিছু হটার কারণ হবে না এবং মৃত্যুর পরোয়া না করে এই পথের অনুসারীরা ময়দানে অবিচল থাকবেন। তিনি আল্লাহর পথে শাহাদাত বরণকে সম্মানের উৎস হিসেবে উল্লেখ করে জোর দিয়ে বলেন: শহীদদের পথ অব্যাহত থাকবে এবং তাঁদের অনুসারীরা শেষ পর্যন্ত তাঁদের আদর্শের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকে এই পথ থেকে কখনোই বিচ্যুত হবেন না।

তাঁর বক্তব্যের অন্য অংশে শেখ জাকজাকি নিরীহ মানুষের গণহত্যার অপরাধীদের অনুতপ্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং সতর্ক করে বলেন যে, যদি তারা তাদের এই অত্যাচার অব্যাহত রাখে, তবে ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতেই তাদের ধ্বংসের সম্মুখীন হতে হবে। পরিশেষে তিনি বলেন যে, এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য হলো শহীদদের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা, তাঁদের আত্মত্যাগ ও নিঃস্বার্থপরতাকে সম্মান জানানো এবং তাঁদের আদর্শকে সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার নবায়ন করা।

ভাষণ শেষে শেখ জাকজাকি ধর্মীয় পণ্ডিত, ধর্মযাজক, আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন; এরপর তিনি ‘দার-উল-রহমাহ’-তে শায়িত শহীদদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

Your Comment