২৯ জুলাই ২০২৬ - ২৩:৪৬
আনসারুল্লাহ: ইরাকে মার্কিন-সৌদি আগ্রাসন কাপুরুষোচিত/পাল্টা জবাবের অধিকারকে সমর্থন

ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ প্রতিরোধ আন্দোলন ইরাকের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ইরাকের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ইয়েমেনের আল-মাসিরাহ টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত আনসারুল্লাহর রাজনৈতিক ব্যুরোর এক বিবৃতিতে এই হামলাগুলোকে “অবৈধ, কাপুরুষোচিত এবং আন্তর্জাতিক আইন ও সব আন্তর্জাতিক চুক্তির পরিপন্থী” বলে নিন্দা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই আগ্রাসন ইরাকের সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং “ইরাকি জনগণের সব শ্রেণি ও গোষ্ঠীর” বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি হামলা।

আনসারুল্লাহ আরও বলেছে, এই হামলা এ অঞ্চলের দেশগুলোর বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের আধিপত্যবাদী নীতির ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন এবং তা “জায়নবাদী তথা ইহুদিবাদী প্রকল্পের” স্বার্থ রক্ষা করে।

বিবৃতিতে আরও জোর দিয়ে বলা হয়, ইরাকের সরকার, সশস্ত্র বাহিনী, জনগণ এবং প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর এ হামলার জবাব দেওয়ার বৈধ অধিকার রয়েছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের জনগণ বহিরাগত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরাকের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

ইরাকের বিভিন্ন স্থানে সৌদি-মার্কিন সমন্বিত হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা পরই এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

‘অত্যন্ত বিপজ্জনক উত্তেজনা’ বলে মন্তব্য হাশদ আশ-শাবির

হাশদ আশ-শাবি এই হামলাকে “অত্যন্ত বিপজ্জনক উত্তেজনা” এবং ইরাকের সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।

এক বিবৃতিতে বাহিনীটি জানায়, বুধবার ভোরে মার্কিন ও সৌদি বাহিনীর চালানো “সন্ত্রাসী হামলায়” ইরাকজুড়ে তাদের কয়েকটি সরকারি ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলায় কয়েকজন শহীদ ও আহত হয়েছেন এবং সংগঠনটির ভবন ও অন্যান্য সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পিএমইউ আরও বলেছে, তারা এই হামলাকে “অত্যন্ত বিপজ্জনক উত্তেজনা, ইরাকের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রকাশ্য লঙ্ঘন এবং দেশের আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা” হিসেবে বিবেচনা করছে।

তারা জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করছে এবং হতাহত ও ধ্বংসযজ্ঞের পূর্ণাঙ্গ মাত্রা নির্ধারণের কাজ চলছে।

আরও তথ্য পাওয়া গেলে বিস্তারিত বিবরণ এবং আনুষ্ঠানিক হালনাগাদ প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছে হাশদ আল-শাবি।

এর আগে, সৌদি আরব অভিযোগ করেছিল যে, তাদের তেল স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার উৎস ছিল ইরাক। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরাকি প্রতিরোধ বাহিনী রিয়াদকে ইরাকের ভূখণ্ডে এ ধরনের সামরিক হামলা চালানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিল।

সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রতিরোধ বাহিনী সৌদি আরবের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এবং সেগুলোকে “ভিত্তিহীন” বলে আখ্যায়িত করে।

বিবৃতিতে সৌদি কর্তৃপক্ষকে ইরাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা বন্ধ করে বরং ইয়েমেনের ওপর রিয়াদের আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। 

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha