আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): আজ (বুধবার) ভোরে পৃথক বিবৃতিতে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) যৌথ এই হামলার কথা ঘোষণা করে।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলে, সেন্টকমের সমন্বয়ে সৌদি বাহিনী এমন কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যেগুলো সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি তেল অবকাঠামোর ওপর হামলায় জড়িত ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
সেন্টকমও জানায়, মার্কিন ও সৌদি যুদ্ধবিমান পূর্ব ইরাকে অবস্থিত একাধিক লজিস্টিক ঘাঁটি এবং অস্ত্র সংরক্ষণাগারে হামলা চালিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৭২ ঘণ্টায় ইরাকের ভূখণ্ড থেকে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং রাজধানী রিয়াদের তেল স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে কথিত ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার জবাবে এই আগ্রাসন চালানো হয়েছে।
এদিকে ইরাকি সূত্র, বিভিন্ন আরব গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমের ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, ইরাকের বিভিন্ন স্থানে একাধিক বিমান হামলা হয়েছে। তবে হামলার বিস্তারিত তথ্য, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হতাহতের সংখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
এসব প্রতিবেদনের মতে, সবচেয়ে বড় হামলাগুলো হয়েছে বসরা প্রদেশে। সেখানে আল-দাইর এলাকায় হাশদ আশ-শাবির অপারেশনাল সদরদপ্তর এবং সংগঠনটির অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
আল-হাদাথসহ বিভিন্ন আরব সংবাদমাধ্যম একাধিক বিমান হামলা এবং কয়েকজন আহত হওয়ার খবর দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে ওই এলাকায় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে। বসরায় পিএমইউর অপারেশনস কমান্ড জানিয়েছে, তাদের একটি সদরদপ্তরের আশপাশে তিনটি বিমান হামলা হয়েছে এবং দুটি ক্ষেপণাস্ত্র কাছাকাছি এলাকায় আঘাত হেনেছে।
অন্য খবরে বলা হয়েছে, ওয়াসিত প্রদেশের আল-সুয়াইরা এলাকায় অবস্থিত ঘাঁটি ও অস্ত্রভাণ্ডার, যার মধ্যে আল-ফাতহ আল-মুবিন ঘাঁটিও রয়েছে, সেগুলোও হামলার শিকার হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্র আরও জানিয়েছে, বাবিল প্রদেশে হাশদ আশ-শাবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অবস্থানেও হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে জুরফ আল-নাসর এলাকার অবস্থানগুলোও রয়েছে।
এছাড়া যাচাই না হওয়া কিছু প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে দাবি করা হয়েছে, নিনেভেহ সমভূমি, কিরকুক, কারবালা এবং পূর্ব ইরাকের আরও কয়েকটি এলাকায়ও হাশদ আল-শাবির অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে।
Your Comment