আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): টোকিওতে আয়োজিত ‘সাপোর্টার্স অফ পিস’ (Supporters of Peace) নামক নাগরিক-সাংস্কৃতিক উৎসবের সাথে সঙ্গতি রেখে অনুষ্ঠানস্থলে মিনাবের ‘শাজারাহ-ই তাইয়্যেবা’ (Shajareh-ye Tayyebeh) স্কুলের শহীদ শিশুদের ছবি নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল; স্কুলটিতে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মানবিক দিকটি তুলে ধরার লক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রদর্শনীটি অংশগ্রহণকারীদের কাছে বেশ সমাদৃত হয়।
এই প্রদর্শনীতে মিনাবের ‘শাজারেহ-য়ে তাইয়েবেহ’ স্কুলের শিক্ষার্থীদের বহু ছবি তুলে ধরা হয়েছিল—যে স্কুলটি প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার শুরুর মুহূর্তে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। প্রদর্শিত ছবিগুলো সেই শিশুদের মানবিক দিকটি তুলে ধরেছিল যারা এই হামলা ও তার পরবর্তী পরিস্থিতির শিকার হয়েছিল; উল্লেখ্য, সেই হামলার রেশ ও তিক্ততা আজও ইরানি সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রকটভাবে অনুভূত হয়।
প্রদর্শনী চলাকালে 'আওয়ার ইরান' (Our Iran) সংগঠনের একজন প্রতিনিধি—যিনি ইরানের কণ্ঠস্বর ও মিনাবের শিশুদের পক্ষ থেকে কথা বলছিলেন—ঘটনাটির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে যখন ক্লাস চলছিল, তখন এই হামলাটি ঘটে; ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ফলে স্কুলের ভবনটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর ধসে পড়ে।
তিনি এই হামলাকে মানবতার বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের নীতি ও বিধিমালার লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেন; তিনি আরও জানান যে, এই ঘটনায় ১৬৮ জন—যাদের অধিকাংশই ছিল সাত থেকে বারো বছর বয়সী মেয়ে এবং সেই সাথে বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও অভিভাবক—প্রাণ হারায় এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়।
মিনাব স্কুলের ওপর হামলার শিকার শিশুদের ছবি নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনীটি—এমন এক প্রেক্ষাপটে—জাপানি দর্শকদের সামনে যুদ্ধের মানবিক পরিণতির এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছিল; উল্লেখ্য, হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলার ঐতিহাসিক স্মৃতি জাপানিদের সম্মিলিত চেতনায় গভীরভাবে প্রোথিত রয়েছে। এই প্রদর্শনীটি শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এবং বেসামরিক নাগরিক—বিশেষ করে শিশুদের—সুরক্ষা নিশ্চিত করার আবশ্যিকতাকেও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিল।
Your Comment