২৭ আগস্ট ২০২৫ - ২১:১৯
গাজার নতুন এলাকায় ইসরায়েলি ট্যাংক

গাজা সিটির নতুন এলাকায় ট্যাংক নিয়ে প্রবেশ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): স্থানীয়দের মতে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতের এই অভিযানে ঘরবাড়ি ধ্বংস ও গোলাবর্ষণে বহু মানুষ আহত হন এবং অনেকে বাধ্য হয়ে শহরের ভেতরে আরও গভীরে আশ্রয় নেন।



বুধবার এ অবস্থার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ নিয়ে বৈঠক করতে যাচ্ছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

গাজার বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে ইসরায়েলি ট্যাংক উত্তর গাজার ইবাদ-আলরহমান এলাকায় ঢুকে গোলাবর্ষণ করে। ৬০ বছর বয়সী সাদ আবেদ বলেন, হঠাৎ খবর এলো ট্যাংক ঢুকেছে।

বিস্ফোরণের শব্দ ক্রমেই বাড়তে লাগলো। আমরা দেখলাম মানুষ আমাদের এলাকায় পালিয়ে আসছে। যদি যুদ্ধবিরতি না হয়, তাহলে ট্যাংক আমাদের বাড়ির দরজায় এসে পড়বে।

ইসরায়েল বলছে, তারা গাজা সিটিতে নতুন অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটিকে হামাসের ‘শেষ ঘাঁটি’ বলে বর্ণনা করছে তেল আবিব। গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দার অর্ধেক এখন গাজা সিটিতে অবস্থান করছেন। ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের সবাইকে সরিয়ে নেওয়া হবে।

তবে শহরের চার্চ নেতারা বুধবার বলেছেন, তারা সরে যাচ্ছেন না। বিবৃতিতে গ্রিক অর্থোডক্স ও লাতিন প্যাট্রিয়ার্কেট জানিয়েছে, দক্ষিণে পালানো মানে মৃত্যুদণ্ডের শামিল।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিখাই আদরেই বলেন, গাজা সিটি খালি করা অনিবার্য। দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলীয় শিবিরগুলোতে খালি জায়গা আছে। তবে জাতিসংঘ ও ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ১৫ লাখ নতুন তাঁবুর প্রয়োজন হবে।

হোয়াইট হাউজে বুধবার ট্রাম্পের সভাপতিত্বে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হবে বলে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। তিনি বলেছেন, এ বছরের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ হবে বলে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ওয়াশিংটনে বৈঠক করছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সাআরের সঙ্গে।

বুধবার পরে ইসরায়েলি ট্যাংকগুলো আবার জাবালিয়া এলাকায় ফিরে যায়। তবে গাজার পূর্বাংশের শেজাইয়া, জেইতুন ও সাবরা এলাকায় বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, গত একদিনে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস ও হামাস যোদ্ধাদের নির্মূল’ করছে। গত ২২ আগস্ট পশ্চিম গাজার সাধারণ নিরাপত্তা গোয়েন্দা প্রধান মাহমুদ আল-আসওয়াদকে হত্যা করার কথাও জানিয়েছে সেনারা। তবে হামাস এ দাবি নিশ্চিত করেনি।

ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র হচ্ছে। মঙ্গলবার সারা দেশে হাজারো মানুষ যুদ্ধ বন্ধ ও হামাসের হাতে আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে রাস্তায় নামেন।

মার্কিন-সমর্থিত সর্বশেষ ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইসরায়েল এখনও আনুষ্ঠানিক সাড়া দেয়নি। তবে হামাস গত সপ্তাহে এ প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে যোদ্ধারা ইসরায়েলে প্রবেশ করে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে। এর জবাবে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

যুদ্ধের কারণে গাজার প্রায় সব মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং পুরো অঞ্চল মানবিক বিপর্যয়ে নিমজ্জিত।

বুধবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, অপুষ্টি ও অনাহারে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ ধরনের কারণে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩১৩ জনে। যাদের মধ্যে ১১৯ জন শিশু। ইসরায়েল অবশ্য গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সংখ্যাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha