আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেযায়ী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের শর্ত নিয়ে আলোচনা করছে, তা বাস্তব কোনো সমাধান নয়।
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে যে লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি, এখন আলোচনার মাধ্যমে সেটাই চাপ দিয়ে আদায় করতে চাইছে। তিনি আরও বলেন, ইরান প্রস্তুত আছে এবং কোনো চাপ, হুমকি বা সামরিক উসকানি এলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে এখনো তেহরানে পর্যালোচনা চলছে। ইরান তাদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন শেষ করার পর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রস্তাবে যেসব শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো “অতিরিক্ত এবং বাস্তবসম্মত নয়”— এবং ইরানি কর্মকর্তারা এরইমধ্যে এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন।
প্রস্তাবের মূল বিতর্কিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ইরানকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন চায় ইরানকে দ্রুত— সম্ভবত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এই প্রস্তাবে সাড়া দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগকে যুদ্ধ বন্ধের একটি পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, ইরান শর্ত না মানলে পরিস্থিতি আবার সংঘাতের দিকে যেতে পারে।
এই পুরো পরিস্থিতিতে দুই দেশের অবস্থান এখনো সম্পূর্ণ বিপরীত। যুক্তরাষ্ট্র বলছে আলোচনা ও চুক্তির মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো সম্ভব, আর ইরান বলছে এটি চাপ প্রয়োগ ও রাজনৈতিক কৌশল ছাড়া কিছু নয়।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনো ঝুলে রয়েছে।
Your Comment