আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফ বলেছেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিরোধ ও অবিচল অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থাকে এক চূড়ান্ত রাজনৈতিক ও সামরিক পরাজয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ইসলামি বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনয়ীর বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরানে অবস্থানরত বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে শনিবার এক বৈঠকে গালিবাফ এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ইরান কখনোই কোনো যুদ্ধ শুরু করেনি; এমনকি যখন দেশটি আক্রমণের শিকার হয়, তখনও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের পরোক্ষ আলোচনা চলছিল।
তিনি আরও বলেন, "সাম্প্রতিক সময়েও আমরা আলোচনার টেবিলে ছিলাম, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী ইরানের ওপর হামলার মাধ্যমে সেই আলোচনার প্রক্রিয়াকেই নস্যাৎ করে দিয়েছে।" যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় ইরানের প্রধান আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী গালিবাফ জোর দিয়ে বলেন যে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী রণক্ষেত্রের দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও অপ্রতিসম যুদ্ধের (asymmetric warfare) মাধ্যমে আগ্রাসীদের এক অবিস্মরণীয় শিক্ষা দিয়েছে এবং তাদের অপরাজেয় হওয়ার মিথ বা ধারণাটি চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে।
তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পূর্ণ শক্তিতে রুখে দাঁড়াবে। সংসদ স্পিকার মার্কিন আগ্রাসন ও একপাক্ষিকতার বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আমরা নিশ্চিত যে [ইসলামী] বিপ্লবের শহীদ নেতা ও অন্যান্য শহীদদের রক্ত পবিত্র কুদসের মুক্তির পথ দেখাবে এবং ভবিষ্যৎ প্রতিরোধ ফ্রন্টেরই।"
অন্যদিকে, বাংলাদেশের স্পিকার বলেন, আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর মৃত্যু শুধু ইরানের নয়, বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি ক্ষতি।
আহমদ আলোচনার সময় ইরানের আচরণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং এ অঞ্চলে একটি টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি উভয় পক্ষের মধ্যে সংসদীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
Your Comment