আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): মাশহাদের স্থানীয় সময় অনুযায়ী এখন ঠিক দুপুরের নামাজের আজানের সময়—অনুষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে এখনও দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বাকি—অথচ দেশের শহীদ নেতা ও তাঁর পরিবারের জানাজার শোভাযাত্রার জন্য নির্ধারিত প্রধান পথ ‘ইমাম রেযা সড়ক’ এখনই বিশাল জনসমাগমে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।
অনেক পুণ্যার্থী বুধবার সন্ধ্যা থেকেই ইমাম রেযা সড়কে জড়ো হয়েছিলেন; তাঁরা ভেবেছিলেন পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালেই শোভাযাত্রাটি শুরু হবে এবং তাঁরা সেভাবেই এর অপেক্ষায় ছিলেন।
তবে আনুষ্ঠানিক আয়োজক কমিটির তথ্যমতে, মাশহাদে জানাজার শোভাযাত্রাটি আজ দুপুর ২টায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ধর্মীয় ও বিপ্লবী অনুষ্ঠানের ঐতিহ্যবাহী পথ হিসেবে পরিচিত জানাজার মূল শোভাযাত্রার রাস্তায় বর্তমানে যে জনসমাগম হয়েছে, তা ‘কুদস দিবস’ ও ‘২২শে বাহমান’-এর বিশাল জনসমাগমকেও টেক্কা দিচ্ছে। অথচ জানাজার আনুষ্ঠানিকতা এখনও শুরু হয়নি এবং শ্রদ্ধেয় নেতার পবিত্র দেহও এখনও সেই পথে এসে পৌঁছায়নি; এরই মধ্যে সড়ক, রেল ও আকাশপথে বিপুল সংখ্যক শোকাতুর মানুষ তাঁদের শহীদ নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে মাশহাদে সমবেত হচ্ছেন।
ইমাম রেযা সড়ক এবং পবিত্র মাজার সংলগ্ন অন্যান্য রাস্তায় আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলোর সংবাদ ও ছবি সংগ্রহের কাজে শত শত সাংবাদিক ও আলোকচিত্রী নিয়োজিত রয়েছেন। এ
র পাশাপাশি, দিনের ঘটনাপ্রবাহ নথিবদ্ধ করার বিষয়ে আন্দোলনকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল আগ্রহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে; গণমাধ্যমকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—সবাই মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে মাশহাদের এই পরিবেশ ও দৃশ্যপট ধারণে ব্যস্ত।
ইমাম রেযা (আ.)-এর পবিত্র মাজার সংলগ্ন এলাকা, মাজারে যাওয়ার পথ এবং এমনকি পবিত্র শহর মাশহাদের প্রবেশপথগুলোতেও সমাজকর্মী ও মসজিদের স্বেচ্ছাসেবকরা তীর্থযাত্রী ও ভ্রমণকারীদের বিনামূল্যে আবাসনের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।
অংশগ্রহণকারীদের থাকার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে যাতে কোনো বড় ধরনের সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতে তিন দিন আগেই ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল; মাশহাদের আবাসন ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের মতে, এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের থাকার মতো পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে এবং এসব স্থানে আতিথেয়তা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
Your Comment