আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): শত্রু জাহাজগুলো যখন প্রণালির কাছে আসার চেষ্টা করে, তখন ইরানের নৌবাহিনী তাদের কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়। এই হুঁশিয়ারি শুনেই শত্রু জাহাজগুলো পিছু হটে যায় এবং প্রণালিতে ঢোকার সাহস পায়নি।
এর আগে ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি বলেছিলেন, “ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আরব সাগর থেকে শুরু করে পুরো হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। শত্রুরা যদি সামনে আসে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সামরিক অভিযান চালানো হবে।”
একই বিষয়ে দক্ষিণাঞ্চলের স্থানীয় সংবাদসূত্রের বরাত দিয়ে ফার্স নিউজ জানিয়েছিল, ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ঘটনাটি ঘটে জাস্ক এলাকার কাছাকাছি।
খবরে বলা হয়, মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি নৌ-নিরাপত্তা লঙ্ঘন করে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। ইরানের নৌবাহিনী প্রথমে তাকে সতর্ক করলেও জাহাজটি তা উপেক্ষা করে। তখন আইআরজিসির নৌ-ইউনিট জাহাজটির দিকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই হামলার পর মার্কিন জাহাজটি আর সামনে এগোতে পারেনি এবং পিছু হটে এলাকা ছেড়ে চলে যায়। এখন পর্যন্ত এই হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইরান একাধিকবার জানিয়েছিল যে, তাদের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। এই সতর্কতা অমান্য করলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক ঘাঁটির কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেন, “যেকোনো বিদেশি সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষ করে আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী, যদি হরমুজ প্রণালির কাছ ঘেঁষে বা ঢোকার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হবে।”
ইরানের এই হুঁশিয়ারির কিছু সময় আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি অভিযান শুরু করার ঘোষণা দেন। এই অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, তারা হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে বের করে আনতে সাহায্য করবে। ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটল।
Your Comment